• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৩০-১০-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৫:৩১
  • ৮০ বার দেখা হয়েছে

সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার নাজুক অবস্থা

সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার নাজুক অবস্থা

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা  ►

বাহির থেকে দেখতে চকচক করলেও ভিতরে নানা অনিয়ম আর ব্যবস্থাপনার দরুণ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসাসেবার পরিবর্তে রোগীরা নিয়মিত হয়রানি এবং দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছে সরকারী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। 

রোগী এলেই তাদের দায়সাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শহরের কোনো হাসপাতালে বা ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে এ উপজেলার জনসাধারণ কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে হচ্ছে বঞ্চিত হচ্ছে। জনসাধারণ নিরুপায় হয়ে চিকিৎসা নিতে শহরের কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে অথবা পল্লী চিকিৎসকদের নিকট স্বরানাপন্ন হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা ৫০ শয্যার সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সে কারণে প্রতিদিন ডেলিভারি, ডায়রিয়া এবং দুর্ঘটনায় হতাহতসহ বিভিন্ন ধরণের গরীব অসহায় রোগী আসে আন্তঃ বিভাগে ও বহির বিভাগে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি না করে বেশির ভাগ রোগীকে দায়সাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অথবা গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। 

এছাড়া বহির বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের জ্বর মাপা, পেশার মাপা, চোখের রং এবং জিহব্বা কোনোটাই না দেখে সব ধরণের রোগীর জন্যই প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, এন্টাসিড আর ভিটামিন লিখে বিদায় করে দেন ডাক্তাররা। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষেরা দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে সঠিক চিকিৎসার পরিবর্তে নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। 

অতিরিক্ত কাঁশি আর বুকের ব্যথা নিয়ে বহির বিভাগে চিকিৎসা নিতে যোগিপাড়া গ্রাম থেকে আসা শ্বাসপ্রশাসের রোগী আমেলা (৬৫) বেওয়া জানান, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার ফারজানা আক্তার চিকিৎসা না দিয়ে তার সাথে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। বহির বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা বারেক মিয়া, দুলু মিয়, সামাদসহ আরো অনেকে ডাক্তারদের দুর্ব্যবহারের কথা জানান।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে কথা বলাই যায়না তাদের আচরণে মনে হয় তারা যেন চিকিৎসক নন। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার এব্যাপারে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি কেউ এমন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদারকি এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না রোগীরা। কোনো রোগি চিকিৎসার জন্য বেশি চাপ দিলে পরিক্ষার করার জন্য কাগজ লিখে তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অব্যবস্থাপনার দরুণ চিকিৎসার সেবার এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।  

চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর আত্মীয় অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সেলিম জানান, ঔষধ সংকট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে এ হাসপাতালের প্রতি মানুষ আস্থা কমে গেছে। বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে গরীব-অসহায় মানুষের চিকিৎসা করাতে হচ্ছে বিভিন্ন শহরের চিকিৎসকের কাছে। অনেকেই আবার নিরুপায় হয়ে গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় অকালে মৃত্যুবরণ করছে। কেহ আবার চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করছেন। 

চিকিৎসকের অবহেলার কারণে গত শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় পবনতাইড় গ্রামের মতিয়ার রহমান নিলু (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাসেবা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থার ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আরিফুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি এর সদউত্তর না দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি ভালো করার চেষ্টা করবো। এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল্যাহ হেল মাফির সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়