Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

সুন্দরগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাছকর্তনসহ বিভিন্ন অভিযোগ

সুন্দরগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাছকর্তনসহ বিভিন্ন অভিযোগ

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নূতন দুলাল ভরট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. জাহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের গাছ কর্তন, অফিসে বসে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে জুয়া খেলা ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিলের অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষকের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে হাইকোর্টে এক ডজন মামলা চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক অবসর গ্রহন করেন। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো.আশরাফ আলী, মো. জাহেদুল ইসলাম, ও বিধি বহিভূত ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক মোছা. জাহিনুর বেগম পাল্টাপাল্টি ভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরই মধ্যে দায়িত্ব পালন নিয়ে উভয়ের মধ্যে এক ডজন মামলা হাইকোর্টে চলমান রয়েছে। গত দেড় বছর ধরে মোছা. জাহিনুর বেগম ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগকারী ওই প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য মো. আরশাদ আলী বলেন, গত দেড় বছরের ব্যবধানে মো. জাহিনুর বেগম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফরম পুরণ, রেজিষ্ট্রেশন ফি, শিক্ষাবৃত্তি, উপবৃত্তি, টিউশন ফি, রিজার্ভ ও সাধারণ তহবিলের প্রায় ৭ লাখ টাকা আত্নসাত করেছে। সেই সাথে বিধিবহিভূতভাবে গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের দুইটি গাছ কর্তন করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়েটি পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. ছামসুল হক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাহিনুর বেগম প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের অফিসে বসে তাঁর পক্ষের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে মোবাইলে জুয়া খেলেন। এছাড়া তিনি তাঁর ইচ্ছামত বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক অভিযোগ রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাহিনুর বেগম বলেন, অবসর সময়ে অফিসে বসে মোবাইলে বিনোদন উপভোগ করেছি। জুয়া খেলা ও আর্থআত্নসাতের বিষয়টি সঠিক নয়। দায়িত্ব পালন নিয়ে অভিযোগের অন্ত নাই। সেই সাথে হাইকোর্টে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ওই স্কুলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলার শেষ নাই। বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে একটি অভিযোগ বর্তমানে তিনি তদন্ত করছেন।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ের অভিযোগ ও মামলার হিসাব নাই। অসংখ্য অভিযোগ ও মামলা বর্তমানে তদন্ত এবং বিচারাধীন রয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার না থাকায় একাডেমিক সুপারভাইজার বিষয়গুলো দেখভাল করছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে গাছ কর্তন, মোবাইলে জুয়া খেলা ও বিভিন্ন তহবিলের অর্থআত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের আরও একটি তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad