Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

সুন্দরগঞ্জে ৪১৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার বেহালদশা

সুন্দরগঞ্জে ৪১৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার বেহালদশা

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ►

টানা বৃষ্টি-বাদল হলেই গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৪১৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার অবস্থা হয়ে যায় বেহাল। কোথাও কোথাও হাটু কাঁদার কারণে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে কাঁচা রাস্তাগুলো। শিক্ষার্থীরা একদিন স্কুল ড্রেস পড়ে গেলে পরদির আর ওই স্কুল ড্রেস ব্যবহার করতে পারছে না। কাঁদা রাস্তার কারণে বেশি ভাড়া দাবি করায় যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা লেগেই চলছে প্রতিদিন। 

দহবন্দ ইউনিয়নের জরমনদী গ্রামের বাসিন্দা হিরামনি বেগম বলেন, সন্তানের বাবা চাকরি করেন ঢাকায়। সে কারণে তিনি প্রতিদিন সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যান। টানা বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তায় কাঁদার কারণে অনুরোধ করেও কোনো রিস্কা, ভ্যান ও অটো চালক স্কুলে যেতে রাজি হন না। ২০ টাকর ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। তাও আবার কোনো কোনো জায়গায় নেমে ঠেলা দিতে হয়। প্রতিদিন কাঁদায় নষ্ট হয়ে হচ্ছে পরনের জামা কাপড়। 

ভিন্ন চিত্র পৌরসভার। পৌরসভার কলেজ পাড়ার আব্দুর রহিম বলেন, পৌরসভার সবগুলো রাস্তায় অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার মত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সামন্য বৃষ্টি হলেই জমে যায় হাটু পানি, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সন্তানদের নিয়ে স্কুলে যাওয়া ও শহরে চলাচল করা মুসকিল ব্যাপার হয়ে পড়েছে। বাসা থেকে বের হলে জামা কাপড় ও পায়ের জুতা ভিজে যাচ্ছে পানিতে। 

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পনেরটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে উপজেলার পরিসর। এখানে ৭৩৯ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এরমধ্যে ৩২০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে। বাকী ৪১৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। দীর্ঘদিন হতে নতুন করে পাকা রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। এখন পাকা রাস্তায় মেরামত ও সংস্কারের কাজ চলছে। 

স্কুল শিক্ষক সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দিক থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা উত্তলাঞ্চলের মধ্যে অনেকটা পিছে রয়েছে। টানা বর্ষনের কারণে মোটরসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক কিলোমিটার রাস্তা যেতে কমপক্ষে আধাঘন্টা সময় লাগছে। এছাড়া প্রতিদিন জামাকাপড় অপরিস্কার হয়ে যায়। পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আব্দুর রশিদ রেজা সরকার ডাবলু বলেন, রাজস্ব দিয়ে পৌরসভার সড়ক ও ড্রেন মেরামত করা সম্ভাব হয় না। সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে সড়ক ও ড্রেন মেরামত, সংস্কার ও নির্মাণ হয়ে থাকে। বরাদ্দ না থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি। 

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবতী বলেন, পাকা রাস্তার চাহিদা প্রতিবছর পাঠানো হয়। বরাদ্দের বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের অনেকটা গুরুত্ব রয়েছে। যোগাযোগের মাধ্যমে বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। প্রতিবছর সাধারণ ভাবে যে বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা দিয়ে পাকা রাস্তার পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব নয়। আর বর্তমানে কাঁচা রাস্তার মেরামতের জন্য পূর্বের ন্যায় প্রকল্প নেই। 

তবে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, উন্নয়ন বঞ্চিত গাইবান্ধা-১, সুন্দরগঞ্জ উপজেলাবাসির কষ্টের জায়গা হল কাঁচা রাস্তা ও নদী ভাঙন। এমপি হিসেবে সংসদে এই দাবি নিয়ে সর্বপ্রথম কথা বলেছি। দেখা যাক সরকার কি ব্যবস্থা নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad