Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্রহীন ‘আড়াই হাজার’ প্রার্থী

সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্রহীন ‘আড়াই হাজার’ প্রার্থী

অনলাইন ডেস্ক ►
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই (ভেরিফিকেশন) শেষে অনেক প্রার্থীর নাম নিয়োগপত্রের তালিকায় না থাকায় তারা পুনঃ যাচাই ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দাবি করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ১ অক্টোবরের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। এক প্রতিবেদনে সমকাল প্রকাশ করে প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করেছে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সংখ্যা জানানো হয়নি। অন্য একটি হিসাবে এ সংখ্যা দুই হাজার ২০০-এর বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য, ডোপ টেস্টে সমস্যা, স্বাস্থ্য সনদের ঘাটতি এবং শিক্ষা সনদে অসংগতির কারণে অনেকের নিয়োগ আটকে গেছে। এর মধ্যে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই প্রতিবেদনের কারণেই সবচেয়ে বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নিয়োগপত্র নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, ১ অক্টোবর পর্যন্ত কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

এর আগে নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেন তিনি।
সংগঠনটির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষভাবে পুনঃ যাচাই, তথ্যগত ভুলের ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ত্রুটিতে কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ এসেছে। প্রার্থীদের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা, ঝালকাঠি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পাবনা, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও মানিকগঞ্জসহ অন্তত ১৫ জেলায় ৩৫১ জন নিয়োগপত্র পাননি। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব নয়।

খুলনায় সুপারিশ পাওয়া ৬৯ জন নিয়োগপত্র পাননি। সুনামগঞ্জে বাদ পড়েছেন ১২০ জন, মৌলভীবাজারে ৬৭ জন এবং যশোরে ১০৬ জন। এসব জেলার অনেক প্রার্থী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন।

সিলেটের বানিয়াচংয়ের রাহুল দাস বলেন, চাকরি হয়েছে এ কথা পরিবারকে জানিয়ে আনন্দ করেছিলেন। কিন্তু পরে নিয়োগপত্র না পেয়ে এখন কী বলবেন, তা বুঝতে পারছেন না। পিরোজপুরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থী জাহিদ হাসানও নিয়োগপত্র পাননি। তাঁর দাবি, কোনো মামলা বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি বাদ পড়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিতদের ১ অক্টোবরের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের প্রশ্ন, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও তাদের নাম কেন তালিকা থেকে বাদ গেল এবং ভেরিফিকেশনে কী তথ্য পাওয়া গেছে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

খবর-কালের কন্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad