• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৩-১১-২০২২, সময়ঃ বিকাল ০৩:২৭
  • ১১৫ বার দেখা হয়েছে

সৈয়দপুরে কৃষক বাবুর চীনা ধান ‘ব্ল্যাক রাইস’র চাষ সাড়া ফেলেছে

 সৈয়দপুরে কৃষক বাবুর চীনা ধান ‘ব্ল্যাক রাইস’র চাষ সাড়া ফেলেছে

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর  ►

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো চালের আবাদ শুরু হয়েছে। চীনের এই চালের পরীামূলক চাষ করেছেন উপজেলার শফিকুল ইসলাম বাবু নামের এক কৃষক। ইতোমধ্যে ফসলও হয়েছে আশানুরূপ। আর মাত্র ১৫ দিন পর কাটা হবে সেই ধান। ফলন, দাম ছাড়াও বাজারজাতের ওপর ভিত্তি করে আগামীতে আবাদ সম্প্রসারণের কথা ভাবছেন তিনি।

সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর দেওয়ানীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাত একর জমিতে আমন আবাদ করেছেন তিনি। এরমধ্যে ২২ শতাংশতে পরীামূলকভাবে কালো চালের জন্য এই জাত আবাদ করেছেন। অন্য ধানের মতো এই ধানের গাছ সবুজ হলেও শীষ কালো রংয়ের। 

কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিচিত এক ব্যক্তির পরামর্শে পরীামূলকভাবে বগুড়া থেকে আধা কেজি বীজধান এনে চারা করে রোপণ করেছি। খরচ কম, কীটনাশক দিতে হয়নি তেমন। আশা করছি ভালো ফলন হবে। এই বীজধান এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তাছাড়া বড় বড় শহরের সুপার শপগুলোতে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের ধান কেটে এগুলো বীজের জন্য সংরণ করে পরে বিক্রি করা হবে। পরবর্তী সময়ে আবাদ সম্প্রসারণের বিষয়টি এবারের ফলন, দাম এবং বাজারের ওপর নির্ভর করছে। লাভজনক হলে নিজে করাসহ অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবো। এখনই অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জানা যায়, প্রাচীন চীনে এই কালো চালের পরিচিতি ছিল নিষিদ্ধ। এর কারণ হিসেবে বলা হয়ে থাকে যে এটি দীর্ঘায়ু ও কামোদ্দীপক হিসেবে ভূমিকা রাখে। এ বিশেষ গুণের জন্য এটি সম্রাট ও তার পরিষদের লোকজন ছাড়া সর্বসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। 
আবার কেউ কেউ বলে থাকেন, তখন শুধু রাজপরিবারের মেয়েদের গোপনে এ চালের ভাত খাওয়ানো হতো বলে এটি নিষিদ্ধ চাল হিসেবে ঐতিহাসিক গল্পগাঁথায় উঠে আসে। সেখানে এই ধান পাহাড় এলাকাগুলোতে শুধু রাজা ও রাজন্যবর্গের জন্য গোপনে চাষ করা হতো। 

থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, জাপান, চীন ও ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা ব্ল্যাক রাইস এখন চাষ হচ্ছে বাংলাদেশে। কুমিল্লা, নওগাঁ, চট্টগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও বগুড়াসহ কয়েকটি জেলায় আবাদ শুরু হয়েছে এই জাতের ধানের। কৃষি অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ও ধান গবেষক ড. মেহেদি মাসুদ বাংলাদেশে এই জাতের ধান আবাদের জন্য নিয়ে আসেন।

দেওয়ানীপাড়া এলাকার কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, প্রথম বারের মতো ব্ল্যাক রাইস আবাদ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষক শফিকুল। আলোচনায় এসেছেন তিনি। আগামীতে আমারও পরিকল্পনা রয়েছে এই ধান আবাদ করার। যেহেতু দামি, পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং চাহিদা ব্যাপক সে কারণে আবাদ করব।

এলাকার আরেক কৃষক মজনু বলেন, ‘আমাদের চিন্তায় আসেনি এ রকম জাতের ধান আছে। কিন্তু শফিকুল ভাই আবাদ করে দেখিয়েছেন। তিনি অবশ্য ফসল নিয়ে নানাভাবে ভাবেন এবং বিভিন্ন গবেষণার মতো কাজ করে থাকেন। এই ফসল যদি সব এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে কৃষকরা বিশেষভাবে লাভবান হবেন। এ েেত্র কৃষি বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে।

ওই এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনিমেষ মজুমদার জানান, আমন আবাদে যে সময় লাগে একই সময় লাগবে ব্ল্যাক রাইস আবাদে। কৃষক শফিকুল যে আগ্রহ নিয়ে আবাদ করছেন সফলকাম হবেন তিনি। মাঠ পর্যায়ে তাকে কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হচ্ছে। অন্য কৃষকদের মাঝেও সাড়া পড়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মমতা সাহা বলেন, অত্যন্ত পুষ্টি গুণ সমৃদ্ধ ধানের জাত হচ্ছে ব্ল্যাক রাইস। সচরাচর এজাতের ধান আবাদ হচ্ছে না। প্রকল্প হিসেবে কৃষক শফিকুল অল্প কিছু জমিতে আবাদ করেছেন। আমরা তার তে পরিদর্শন করেছি। ভালো ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি ১৩ মণ পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে এই ধান।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস রোগ নির্মূলে এই চাল বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করছি। এই চাল দিয়ে পায়েস, খিচুরি, ঘি ভাত, পাস্তা, পাঁপড়, নুডলস করেও খাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়