• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২৯-১২-২০২২, সময়ঃ সকাল ১১:৪১
  • ১৬৬ বার দেখা হয়েছে

স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গাইবান্ধা শহরের বধ্যভূমি

স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গাইবান্ধা শহরের বধ্যভূমি

নিজস্ব প্রতিবেদক ►

স্বাধীনতার ৫১ বছর পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধা পৌর শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ করা হয়নি। এ কারণে স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গাইবান্ধা শহরের এই বধ্যভূমিটি। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় গাইবান্ধা পৌর শহরে অবস্থিত তৎকালীন হেলাল পার্কে (বর্তমান শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম) পাক হানাদার বাহিনীর প্রধান ক্যাম্প ছিল। ক্যাম্পের পাশে কফিল শাহ'র গোডাউনটি ছিল তাদের টর্চার সেল। প্রতি রাতে পাকিস্তানী বাহিনীর সদস্যরা উপজেলার সীমান্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিরীহ লোকদের ধরে এনে নৃশংসভাবে হত্যার পর মাটি চাপা দিয়ে রাখতো। আর নারীদের ধরে এনে চালাতো পাশ্ববিক নির্যাতন। এরপর তাদের গুলি করে নয়তো বায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হতো। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা পাকবাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়।

সরেজমিন সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ জায়গায় গাছ গাছরাসহ আগাছায় ভরে আছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এবং গাইবান্ধা জেলা  বধ্যভূমি কমিটি প্রতি বছর ২৫শে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বর আসলে শহীদদের স্মরণে সেখানে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন। স্বাধীনতা অর্জনের ৫১ বছর পার হয়ে গেলেও আজও সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ।

সারাবছর তালাবদ্ধ অবস্থায় এবং অযন্তে অবহেলায় পড়ে আছে জেলার এই প্রধান বধ্যভূমি। এখনও নির্মম অত্যাচারের চিহ্ন নির্যাতন হয়ে আছে টর্চার সেলের ওই ঘরটি। গণকবরগুলো আগাছায় ভরে আছে। সম্প্রতি সেখানে আইটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। স্থায়ীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষ এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গাইবান্ধা বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক জিএম চৌধুরী মিঠু জানান, এ স্থানটি সরকারি ও বেসরকারিভাবে বধ্যভূমি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গাইবান্ধার বিভিন্ন বধ্যভূমির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্টেডিয়ামের উত্তরপাশের বধ্যভূমিটি। এখানে ১৯৭১-এ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুক্তিকামী নারী-পুরুষদের ধরে এখানে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। মুক্তিযুদ্ধের পর এসব স্থানে রক্তের দাগ, মানুষের হাড়গোড়, নারীদের কাপড়-চোপড়সহ নানা আলামত মিলেছে। দীর্ঘদিন আন্দোলনের পরও এসব স্থান বধ্যভূমি হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।

প্রতিবছর ২৫ মার্চ বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের আয়োজনে এসব বধ্যভূমিতে মোমবাতি প্রজ্বালনের ব্যবস্থা করা করা হলেও সারা বছর এগুলো থাকে অন্ধকার। সরকারিভাবে উদ্যোগ ছাড়া বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

গাইবান্ধার বধ্যভূমিগুলোতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা না করে যথাযথভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান জিএম চৌধুরী মিঠু।

তিনি আরও বলেন সরকারিভাবে ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া শহরের এই বধ্যভূমিতে সম্প্রতি সময়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হলে আমারা বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করি।

সাবেক জেলা কমান্ডার মাহমুদুল হক শাহজাদা জানান,  অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে স্বাধীনতার ৫১ বছরেও আমাদের জেলার প্রধান বধ্যভূমি সংরক্ষণ করে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অবিলম্বে গাইবান্ধা স্টেডিয়াম সংলগ্ন সরকারিভাবে চিহ্নিত বধ্যভূমি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি।

সাবেক জেলা কমান্ডার মো. মজিবুল হক ছানা বিজয়ের মাসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গাইবান্ধা জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন কপিল শাহ'র গোডাউনটি অনেক বাবার সন্তান হারানো কান্না, স্বামী হারা স্ত্রীর কান্না, পিতা হারা সন্তানের কান্না ও অনেক নারীর আত্মত্যাগের জায়গা। স্বাধীনতার ৫১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত বর্ধ্যভূমি সংরক্ষণ করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বর্তমান সরকারের কাছে দাবি করবো ব্যক্তি মালিকানাধীন এই জায়গাটি অধিগ্রহণ করে বধ্যভূমি সংরক্ষণ করে এখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক।

জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান বলেন, ‘বধ্যভূমির স্থানেই স্মৃতিস্তভ নির্মাণ করা হবে। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার হবে বধ্যভূমির জায়গা বাদ দিয়ে পাশ্ববর্তী জমিতে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়