Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

৮৫ রানের পুঁজিতেই টি-টোয়েন্টি ফাইনাল জিতে বিশ্বরেকর্ড!

৮৫ রানের পুঁজিতেই টি-টোয়েন্টি ফাইনাল জিতে বিশ্বরেকর্ড!

অনলাইন ডেস্ক ►
মাত্র ৮৫ রানের পুঁজি নিয়ে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল জেতা—এককথায় যেন অসম্ভব এক অলৌকিক রূপকথা! কিন্তু অসম্ভবকেই সম্ভব করে ইতিহাসের পাতায় নতুন স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখালো গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। গ্লোবাল সুপার লিগ ২০২৬-এর রোমাঞ্চকর ফাইনালে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে মাত্র ৬ রানে হারিয়ে অবিস্মরণীয় এক জয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে ইমরান তাহিরের দল।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টির যেকোনো ফাইনালে এত কম রান ডিফেন্ড করার ইতিহাস আগে আর কখনোই ছিল না। এর আগে ২০২০ সালে বিগ ব্যাশ লিগের ফাইনালে মেলবোর্ন স্টার্সের বিরুদ্ধে সিডনি সিক্সার্সের ১১৬ রান ডিফেন্ড করার রেকর্ডটিই এতদিন শীর্ষে ছিল, যা দুমড়ে-মুচড়ে দিল গায়ানার এই বোলিং তাণ্ডব।শনিবার নিজেদের ঘরের মাঠ প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের চালক ইমরান তাহির। তবে তার সিদ্ধান্তকে ব্যাকফুটে ঠেলে শুরুতেই তাণ্ডব চালায় সান ফ্রান্সিসকোর বোলাররা।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও জনসন চার্লস। পাওয়ারপ্লের ছায়ায় মাত্র ২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা স্বাগতিকদের বিপদ আরও বাড়ে দেখতে দেখতে। সান ফ্রান্সিসকোর তোপের মুখে পড়ে ৮.৫ ওভারে মাত্র ২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে অলআউট হওয়ার প্রহর গুণছিল গায়ানা।

ঠিক তখনই নবম উইকেটে দলের দেবদূত হয়ে আবির্ভূত হন ম্যাথিউ ফোর্ড ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লড়াকু ৪১ রানের জুটি গড়ে দলকে একটা ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে যান তারা। ফোর্ড ২৩ বলে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন এবং প্রিটোরিয়াসের ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে লড়াকু ১৭ রান। শেষ পর্যন্ত ১৮.৫ ওভারে ৮৫ রানে গিয়ে থামে গায়ানার রথ। মাত্র ৮৬ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসও; দ্বিতীয় ওভারেই ৬ রানে সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার। কিন্তু অলিভার পিক, অধিনায়ক হাসান খান ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির ধীরগতির জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় তারা।

১০ ওভারে হাতে ৭ উইকেট রেখে ৫০ রান তুলে নিয়ে সহজ জয়ের পথেই হাঁটছিল দলটি। তবে এরপরই শুরু হয় গায়ানা বোলারদের শ্বাসরুদ্ধকর প্রত্যাবর্তন! গায়ানার স্পিন ও পেস বিষে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট খুইয়ে ৫৩/৩ থেকে দেখতে দেখতে ৫৮ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয় সান ফ্রান্সিসকো!

নবম উইকেটে ফেবিয়ান অ্যালেন ও অভিজ্ঞ পিটার সিডল ১৪ রান যোগ করে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে ভয়ংকর হতে যাওয়া সেই জুটি ভাঙেন প্রিটোরিয়াস। ১৮তম ওভারে সিডল বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে রোমাঞ্চ তুঙ্গে তুললেও ১৯তম ওভারে শিমরন হেটমায়ারের রকেট গতির সরাসরি থ্রোতে ১ রান করা ক্যালাম স্টো রানআউট হতেই ৭৯ রানে থামে সান ফ্রান্সিসকোর ইনিংস। ৬ রানের ঐতিহাসিক জয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে গায়ানা গ্যালারি।

অলৌকিক এই ফাইনাল জয়ের পর ট্রফি হাতে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের চিফ ইমরান তাহির উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে না পেরে বলেন, ‘সত্যি বলতে, শুরুটা আমাদের একদমই বাজে হয়েছিল। আমরা খুব ভালো করেই জানতাম ৮৫ রান ডিফেন্ড করা প্রায় অসম্ভব এক কাজ। আমি ছেলেদের ড্রেসিংরুমে শুধু একটাই কথা বলেছিলাম—নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। অন্য যেকোনো দিন এই রান প্রতিপক্ষ অনায়াসেই তুলে নিত। কিন্তু এই রান বাঁচানোর জন্য রক্তের ভেতরের আত্মবিশ্বাসটা দরকার ছিল। আমার দল একদম নিজেদের নাম অনুযায়ী সত্যিকারের যোদ্ধার মতোই লড়াই করেছে, ওদের জন্য আমি দারুণ গর্বিত।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad