Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১২ ঘন্টা আগে
  • ৩৭ বার দেখা হয়েছে

এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ—ছবি: মাধুকর।

আবু সায়েম শান্ত, গাইবান্ধা

বই-খাতার চেনা জগত থেকে বেরিয়ে এক চিলতে রোদেলা মাঠ আর রঙিন উৎসবে মেতে উঠেছিল শিক্ষার্থীরা। গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর হরিণ সিংহা এলাকায় অবস্থিত এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং পরিণত হয়েছিল আনন্দ আর শৃঙ্খলার এক মিলনমেলায়। বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, নান্দনিক ডিসপ্লে আর বিচিত্র সব খেলাধুলার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করা হলো প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।

সকাল ৯টা। শীতের মিষ্টি রোদে জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপরই জ্বলে ওঠে ঐক্যের প্রতীক মশাল। মাঠজুড়ে যখন ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ আর ছন্দময় ডিসপ্লে প্রদর্শন করছিল, উপস্থিত দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের এই সুশৃঙ্খল পরিবেশনা যেন এক চিলতে পেশাদারিত্বের ছাপ রেখে যাচ্ছিল।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে ২০টি ভিন্ন ভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। ভাল্লুক দৌড়, রশি খেলা, রিলে ব্যাটন, গোলক নিক্ষেপ, মোরগ লড়াইয়ের রোমাঞ্চের পাশাপাশি সবার বিশেষ নজর কেড়েছে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ পর্বটি। ছোট সোনামণিদের বিচিত্র সাজ উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি ইভেন্ট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বিজয়ীদের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

শুভ, সুমাইয়া, আঁখিসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, বছরের এই দিনটার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। বইখাতার বাইরে মাঠের এই লড়াই আমাদের অন্যরকম আনন্দ দেয়। বিশেষ করে মশাল হাতে দৌড়ানো আর বন্ধুদের সাথে প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা লিখে বোঝানো যাবে না।

আয়োজনটি কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অভিভাবক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাখা বিশেষ ইভেন্টগুলো উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়। অভিভাবক মৌসুমি আক্তার বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিশুদের মানসিক বিকাশে অত্যন্ত জরুরি। অভিভাবকদের জন্য রাখা ইভেন্টগুলো আমাদের শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সাত্তার পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মশাল প্রজ্বলন, ও ডিসপ্লে প্রদর্শন এবং নানাবিধ খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যে একতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছে, তা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে পাথেয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অর্থ) খোকন কুমার কুন্ডু, ডেপুটি ডিরেক্টর মাহফুজুর রহমান (এইচআর) ও মোফাক্কারুল ইসলাম (অ্যাডমিন), হেড অব এসকেএস এন্টারপ্রাইজ আবু সাঈদ সুমন, এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. অনামিকা সাহা, এসকেএস ফাউন্ডেশনের পাবলিক রিলেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কিংয়ের সমন্বয়কারী আশরাফুল আলম, এসকেএস এন্টারপ্রাইজের সমন্বয়কারী (অর্থ) মাহাবুর রহমান মন্ডল প্রমুখ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রভাষক সঞ্জয় কুমার চৌধুরী ও সিনিয়র শিক্ষক লুৎফুর নাহার। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad