Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

নওগাঁর ৬টি আসনে ২০ জন প্রার্থীই জামানত হারাচ্ছেন

নওগাঁর ৬টি আসনে ২০ জন প্রার্থীই জামানত হারাচ্ছেন

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ  

অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলীয় ২৭ জন এবং স্বতন্ত্র ৫ জনসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তাদের মধ্যে ২০ জন প্রার্থীই তাদের জামানত হারাতে বসেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।  

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এবার সংসদ সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুকূলে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আট শতাংশ ভোট না পেলে ওই ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। 

ফলাফল ঘোষণা পর জানা যায়, নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনের তিনজন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। এই আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮টি ভোট। আর জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুল হক শাহ্ (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট। 

নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামুইরহাট) আসনে বিভিন্ন দলের ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এদের মধ্যে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট। ৮ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। 

নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) আসনে ছয়জন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯টি ভোট। আর বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর কালিপদ সরকার (মই) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৮২৩ ভোট। কাজেই এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন। 

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে চারজন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির ডা: এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলদেশ পার্টির সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা: আরফানা বেগম (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ৭১২ ভোট। এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে তিনজন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির মো: আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুর রহমান (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১০১ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪১ ভোট। এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন। এবং নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে তিনজন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। অপরদিকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৩ ভোট। নিয়ম অনুযায়ী ৮ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা সকলেই জামানত হারাচ্ছেন। 

নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিসার মো: আব্দুল মোত্তালিব জানান, এবার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছে। অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেউ যদি তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশ ভোট না পান, তাহলে তাঁর জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad