
অনলাইন ডেস্ক ►
গত ২৫ বছর এই ভবনে কেউ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বসবাস করেননি। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া বসবাস করেছিলেন। তিনি ২০০১ সালে ভবনটি ছেড়েছিলেন। এরপর ২৫ বছর কেটে গেছে অথচ সেখানে আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা ওঠেননি। এতে নানান রকমের গাছপালায় ভরপুর বাড়িটির আঙিনা যেন নিষ্প্রাণ হয়ে আছে! বলছিলাম রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর বাড়ি। সরকারি দোতলা লাল ভবনটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ব্রিটিশ আমলে আড়াই একর জায়গার ওপর বাড়িটি (২৯ নম্বর বাড়ি) করা হয় তখনকার সরকারি কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একসময় বাড়িটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাড়িতে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া উঠেছিলেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত তাঁর নামে বাড়িটি বরাদ্দ ছিল। এরপর আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে ওঠেননি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির জি এম কাদের ওঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর উঠতে পারেননি। তবে সেই সময় ভবনটির সংস্কার করা হয়।
উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসন পেয়ে বিশাল বিজয় পেয়েছে বিএনপি জোট। জামায়াতে ইসলামী জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। সে হিসাবে বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দলের প্রধান যিনি হবেন তাঁর ওপর নির্ভর করবে সরকারি এই ভবনে তিনি থাকবেন কি না।
সরেজমিন ভবনটি ঘুরে দেখা গেছে, ভিতরে শতবর্ষী দেবদারু গাছ যেন অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। ভিতরে অর্ধশত বছরের বেশি বয়সি আরও গাছ আছে। দায়িত্বরতরা জানান, লাল দোতলা ভবনটির ওপরে ৪টি রুম ও ৪টি ওয়াশ রুম, নিচে ৬টি রুম ও ৪টি ওয়াশ রুম আছে। ভবনটিতে নতুন টাইলস, কমোড লাগানো আছে। তবে কোনো ফার্নিচার নেই। যিনি উঠবেন তাঁর ইচ্ছার ওপর ফার্নিচার কেনা হয়।
গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) রওশন এরশাদ বাড়িটি বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। তবে তখন তাঁর নামে বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাড়িটি বরাদ্দের জন্য চিঠি দেন। তখন বাড়িটি তাঁর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তিনি বাড়িটিতে ওঠেননি। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির জি এম কাদের বাড়িটি বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি উঠতে পারেন সে বিবেচনায় সে সময় বাড়িটি নতুন করে সংস্কার করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে আর উঠতে পারেননি। বাড়িটির দেখভালে থাকা গণপূর্তের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মেহবুবুর রহমান বলেন, এই বাড়িটির ৯০ ভাগ কাজ কমপ্লিট (সম্পূর্ণ) আছে। রাস্তার অংশ আর রঙের ফিনিশিং করতে হবে। আসবাব দেওয়া হবে যিনি থাকবেন তাঁর চাহিদার ওপর। গত ২৫ বছর কেউ থাকেননি।