
ভবতোষ রায় মনা ►
নিভৃত পল্লী গ্রামের খাজাদুর রহমান সাদার স্ত্রী শিল্পী বেগম একজন গৃহিণী। সংসারের কাজে ফাঁকে বসতভিটা সংলগ্ন পরিত্যক্ত ৮ শতাংশ জমিতে এসকেএস ফাউন্ডেশনের পরামর্শে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ শুরু করে। প্রথমবার ফুল চাষ করেই লাভবান হয়েছেন শিল্পী বেগম। মাত্র ৩ হাজার ৩শ টাকা খরচ করে তাঁর সেই জমিতে ৩ হাজার গ্লাডিওলাস স্টিক ফুল বিক্রি হবে প্রায় ৪২ হাজার টাকা পাশাপাশি ওই ফুলের বীজ বিক্রি করা যাবে ১৫ হাজার টাকাসহ মোট ৫৭ হাজার টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পী বেগমের ফুল চাষে সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও ফুল চাষের পরিকল্পনা করছেন।
সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে এসকেএস ফাউন্ডেশন-এর এসএমএপি প্রকল্পের মাধ্যমে গ্লাডিওলাস ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষের ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় কৃষ্ণপুর গ্রামের খাজাদুর রহমান সাদার স্ত্রী শিল্পী বেগমকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার দেওয়া হয়। সেই এককালীন অর্থ ও তার ৩ হাজার ৩শ টাকা দিয়ে গত নভেম্বর মাসে ফুল চাষ করেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি জমি থেকে ফুল বিক্রি শুরু করেছেন। প্রথম দিনেই শিল্পী বেগম ১শ’ গ্লাডিওলাস স্টিক ফুল বিক্রি করেছেন ১৪শ’ টাকায়।
সরেজমিন দেখা গেছে, শিল্পী বেগমের বাড়ির পিছনে ফুলের বাগান। সেই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত তার ছেলে শামিউল হাসান সিয়াম ও মেয়ে তমা বেগম। শিল্পী বেগম বলেন, একদিন এসকেএস থেকে কয়েকজন লোক আমার বাড়িতে আসে। এসে তারা ফুল চাষের কথা বলে এবং আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তখন আমি আমার স্বামীর সাথে বোঝা পরামর্শ করে ফুল চাষে রাজি হই। তার পর এসকেএস থেকে আমাকেসহ এই গ্রামের অন্যন্যা নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তার ছেলে শামিউল হাসান সিয়াম বলেন, প্রতিদিন ফুলের বাগান দেখতে লোকজন ভিড় করছে। প্রথম দিনে আমরা জমি থেকে ১শ’ গ্লাডিওলাস ফুলের স্টিক বিক্রি করি। বর্তমান বাজারে প্রতিটি ফুলের স্টিক ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুল ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিটি ফুলের স্টিক বিক্রি করেন ১২ থেকে ১৪ টাকায়। আবার দু’দিন পরেই বিক্রি করা যাবে। তাতে দেখা গেল ফুল চাষে প্রচুর লাভ। তার মেয়ে তমা বেগম জানান, লাভ আছে, তবে পরিশ্রম করতে হয়। সঠিক সময়ে গাছের পরিচর্ষা, পানি দেওয়াসহ অনেক সময় ঔষুধও দিতে হয়।
কৃষক রন্জু মিয়া, মাহবুব মিয়া, হায়দার আলী জানান, শিল্পী বেগমের ফুলের বাগান দেখলাম। তার ফুল চাষের অভিজ্ঞতা শুনে আমারও এই ফুল চাষ শুরু করবো। স্থানীয় ফুল ব্যবসায়ী নয়ন সরকার বলেন, আগে এই ফুল আমরা বাহিরের জেলা যশোরসহ বিভিন্ন স্থান নিয়ে আসা হতো। এখন নিজ জেলাতেই ওই দামে গ্লাডিওলাস ফুল কিনতে পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো পরিবহন খরচ কম, তাজা ফুলটা আমরা পাচ্ছি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এই প্রথম ভাতগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসের শেষের দিকে এ ফুলের চারা রোপণ করতে হয়। ৩ মাসের মধ্যে ফুল পাওয়া যায়। ফুল বিক্রি করে সেই জমিতে আবার বোরো চাষ করা যাবে। অল্প জমিতে স্বল্প সময়ে এই ফুল চাষ করে অধিক উপার্জন করা সম্ভব।
এসকেএস ফাউন্ডেশনের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির পরিচালক ইমরান কবির বলেন, “কৃষিপণ্য বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে প্রান্তিক চাষিদের কৃষিকে লাভজনক করে তুলতে কাজ করছে এসকেএস ফাউন্ডেশন। ঋণ সহায়তার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং সরকারি কৃষি দপ্তরের সঙ্গে কৃষকদের সংযুক্ত করা হচ্ছে।”
এ ব্যাপারে সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, “প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ফসল চাষে এগিয়ে এলে কৃষকের আয় বাড়বে। স্বল্প জমিতেও বেশি আয় করা সম্ভব হবে।” কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে হলে তাকে লাভজনক করতে হবে। আর তা সম্ভব উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে।