
অনলাইন ডেস্ক ►
ব্যাংককের তেরদথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের অপেক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব, যেখানে নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠে আসা বাংলাদেশ দলের সামনে এখন ইতিহাস গড়ার হাতছানি, অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত চাইবে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ এ দল অদম্য পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। গ্রুপ ‘বি’তে তিনটি ম্যাচের সবকটিতে জয়লাভ করে তারা টেবিলের শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে পা রাখে এবং সেখানেও দাপুটে জয় তুলে নেয়। দলের ব্যাটিং অর্ডারে লতা মণ্ডল এবং শারমিন সুলতানা আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে লতা মণ্ডলের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শরিফা খাতুন ও সানজিদা আক্তার মেঘলার নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশকে টানা জয়ের ধারায় রেখেছে। মেঘলা ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টে ৭টি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ম্যাচের আগে মেঘলা শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদের কথাই জানিয়েছেন। বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে আমরা গ্রুপপর্বে তিনটা ম্যাচ উইন করার পর এবং সেমিফাইনালে খুব ভালোভাবে পাকিস্তানের এগেইনস্টে উইন করেছি। তো আমরা টিম হিসেবে পারফরম্যান্স করার কারণে এত দূরে এসে পৌঁছেছি। আগামীকাল (আজ) আমাদের ভারতের সঙ্গে খেলা। তাই আমরা চাইব যেন টিম হিসেবেই খেলতে পারি এবং টিমের যেভাবে আমাদের রিকয়ারমেন্ট সে অনুযায়ী যেন পারফরম্যান্স করতে পারি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
অন্যদিকে ভারত এ দল গ্রুপ এ-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনালে উঠলেও তাদের পথচলা একেবারে নিষ্কণ্টক ছিল না। গ্রুপপর্বে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে পরাজিত হলেও পাকিস্তান ও নেপালের বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ভারতের হয়ে টপ অর্ডারে বৃন্দা দিনেশ ঝড়ো ব্যাটিং করছেন, যার স্ট্রাইকরেট ১৯০-এর ওপরে। এ ছাড়া বোলিংয়ে রাধা যাদব ৯টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন, যা বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ২০২৩ সালের উদ্বোধনী আসরের ফাইনালে ভারতের কাছে ৩১ রানে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল টাইগ্রেসদের। ফলে আজকের এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কেবল শিরোপা জয়ের লড়াই নয়, বরং গত আসরের হারের প্রতিশোধ নেওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। তেরদথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডের স্পিন সহায়ক পিচে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ বনাম ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত কার মুখে হাসি ফোটায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।