Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

চরের বালুমাটিতে ফলছে বিদেশি জাতের গাজর

চরের বালুমাটিতে ফলছে বিদেশি জাতের গাজর

নিজস্ব প্রতিবেদক  ►

নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের যে বালুমাটিতে একসময় কেবল ভুট্টা আর মরিচ ফলত, সেখানেই এখন হাসছে লাল, কমলা, হলুদ, সাদা ও বেগুনি রঙের গাজর। উচ্চফলনশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বিদেশি জাতের এই গাজর চাষ করে গাইবান্ধার চরাঞ্চলে এক অন্যরকম কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষকের তত্ত্বাবধানে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা চরে এই সফলতার চিত্র দেখা যায়।

জানা যায়, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর আর্থিক সহায়তায় এবং বাকৃবির গবেষণা ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. মো. হারুন অর-রশিদের নেতৃত্বে একদল ফেলো শিক্ষার্থী আড়াই মাস আগে এই চরের মাটিতে গবেষণা শুরু করেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল চরের পতিত জমিকে কাজে লাগানো।

ভুট্টা ও মরিচের পাশাপাশি উচ্চফলনশীল গাজরের চাষ বাড়িয়ে পুষ্টিঘাটতি পূরণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ৪০টি দেশি-বিদেশি গাজরের জাত নিয়ে এই পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়। পরীক্ষামূলক এই চাষের জন্য জেলার কামারজানির চরের ৩০ জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ দেওয়া হয়েছিল।

গবেষণায় লাল, কমলা, হলুদ, বেগুনি ও সাদা রঙের উচ্চফলনশীল গাজর চাষে ব্যাপক সফলতা মিলেছে। বালুময় মাটিতে এই ফসল ফলানো যাবে না; এমন ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন গবেষকরা। অল্প খরচে অধিক ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে গাজর চাষের আগ্রহ বেড়েছে। কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট গ্রামের কৃষক তছলিম মিয়া বলেন, ‘এতদিন বালুমাটিতে ভুট্টা ও মরিচ ছাড়া কিছু হতো না। কিন্তু নতুন ফসল গাজর চাষে ব্যাপক ফলন হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে খরচও কম ও লাভ বেশি।’

উন্নত জাতের এই গাজর গাইবান্ধার চরবাসীর জীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর-রশিদ বলেন, ‘এই গাজরগুলো দেশের উষ্ণ ও খরাপ্রবণ অঞ্চলেও টিকে থাকে এবং ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যেই পূর্ণ ফলন দেয়। প্রতিটি গাজরের গড় ওজন ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়, যা বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক।’ তিনি জানান, বিভিন্ন রঙের গাজর পুষ্টিগুণেও অনেক সমৃদ্ধ এবং বাজারে এর মূল্যও বেশি। সেচ, সার ও রোগবালাই কম হওয়ায় অল্প খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের পুষ্টিঘাটতি কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad