
নিজস্ব প্রতিবেদক ►
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় স্থানান্তরের আদেশ বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। আজ শুক্রবার উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সর্বস্তরের জনগণ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালরের সামনে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এতে ফুলছড়ি, ফজলুপুর, এরেন্ডাবাড়ি ও গজারিয়া ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে গজারিয়ায় এ অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে এবং এ পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা দেখা যায়নি। ভৌগলিক দিক থেকেও গজারিয়া সুবিধাজনক হওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ মানুষ এখান থেকেই সেবা গ্রহণ করে আসছে। তারা আরও বলেন, বর্তমান স্থানে অফিস থাকলে চরাঞ্চলের মানুষ সহজেই নৌপথে যাতায়াত করতে পারে। প্রয়োজনে নিরাপদে রাত্রীযাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু নতুন স্থানে এসব সুবিধা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

বক্তারা উল্লেখ করেন, গজারিয়ার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে সপ্তাহে দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা সমবেত হন। এতে দলিল সংক্রান্ত কাজ সহজে সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু অফিসটি কালিরবাজারে স্থানান্তর করা হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মানুষকে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে, যা সময় ও ব্যয় বাড়াবে এবং যাতায়াতে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। তারা আরও বলেন, "যদি এই আদেশ অনতিবিলম্বে বাতিল করা না হয়, তবে ফুলছড়িবাসী আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ও অবরোধের মতো কর্মসূচি দেব।"

এর আগে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে এলাকাবাসীর আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান বাবু, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খুশু, ফুলছড়ি ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল আমিন, ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা, প্যানেল চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, গজারিয়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল আলম সরকার, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গজারিয়া ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী ইউনিয়ন সভাপতি আশরাফুল ইসলাম টিটু, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম বাবু, মশিউর রহমান, জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।