Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৩০-৩-২০২৬, সময়ঃ সকাল ০৮:৫০
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে

সম্বোধনের ব্যাকরণ ও স্যারতন্ত্র

সম্বোধনের ব্যাকরণ ও স্যারতন্ত্র

মো. মামুন অর রশিদ ►

অভিধান বলে-‘স্যার’, ‘জনাব’, ‘মহোদয়’ ও ‘মহাশয়’ সমার্থক শব্দ। বাস্তব জীবনে অভিধানের এই সরলতা খুবই অপ্রাসঙ্গিক। সম্বোধনসূচক এসব শব্দ কেবল শব্দ নয়; এগুলো পদমর্যাদার সূক্ষ্ম সংকেত, দূরত্বের পরিমাপক, আর কখনো কখনো আত্মরক্ষার কৌশল। সম্বোধনসূচক প্রত্যেকটি শব্দের রয়েছে আলাদা ওজন, তাপমাত্রা ও প্রয়োগবিধি। কোনো সম্বোধনে দরজা খুলে যায়, কোনো সম্বোধনে ভ্রু কুঁচকে ওঠে, আবার কোনো সম্বোধনে নীরব অসন্তোষ জমে। তবে, অফিসপাড়ায় সবচেয়ে নিরাপদ সম্বোধন হলো ‘স্যার’। কালক্রমে ‘স্যার’ শব্দটির ব্যবহার শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই শিল্পের নতুন নাম ‘স্যারতন্ত্র’।

আমলাতন্ত্রে সম্বোধনসূচক শব্দের ব্যাকরণ খুবই জটিল। সম্বোধন-ব্যাকরণে কাকে, কখন, কোন স্বরে এবং কতবার সম্বোধন করা হলো-সেটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ‘আচ্ছা, স্যার’, ‘ঠিক আছে, স্যার’, ‘আমি দেখছি, স্যার’, ‘এখনই পাঠাচ্ছি, স্যার’, ‘জি, স্যার’, ‘স্যারৃস্যার’- এসব কেবল কথোপকথনের অংশ নয়; এগুলো দাপ্তরিক ভদ্রতার মৌখিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। ‘স্যার’ শুধু একটি শব্দ নয়; এটি সম্বোধন-ব্যাকরণের যতিচিহ্ন-কোথাও কমা, কোথাও দাঁড়ি, কোথাও বিস্ময়চিহ্ন, কোথাও দীর্ঘশ্বাস।

তবে সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ‘স্যার’ শব্দটি সম্মান প্রদর্শনের সীমা পেরিয়ে অভ্যাস, আনুগত্য কিংবা অতি-সতর্কতার ভাষায় পরিণত হয়। অনেকে মোবাইল কথোপকথনে কিংবা দাপ্তরিক উপস্থাপনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রতি মিনিটে ২০ থেকে ৩০ বার ‘স্যার’ বলেন। তখন ‘স্যার’ শব্দটি সম্বোধন পর্যায়ে থাকে না, তা তৈলে রূপ নিতে শুরু করে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংখ্যায় ‘স্যার’ সম্বোধনে ভাষার স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়। সম্মান প্রদর্শনের জন্য ‘স্যার’ অবশ্যই ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা পরিমিত ও রুচিসম্মতভাবে হওয়া উচিত। প্রতিটি বাক্যে ‘স্যার’ বসিয়ে দিলে ভাষা যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তেমনি সম্মানও অনেক সময় যান্ত্রিক হয়ে যায়।

কেউ কেউ উপস্থাপনায় নিজ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ এবং অন্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করেন। সম্বোধনের এই ভিন্নতা সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ও দূরত্বের আলাদা মানদণ্ড তৈরি করে। এতে মনে হতে পারে-নিজের দপ্তরের কর্মকর্তার প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্য, আর অন্য দপ্তরের কর্মকর্তার প্রতি কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাই, দাপ্তরিক উপস্থাপনায় সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি সমমর্যাদাপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সম্বোধন ব্যবহার করাই অধিক শোভন ও গ্রহণযোগ্য। আবার, কোনো কোনো উপস্থাপক সম্মানের মাত্রা বাড়াতে গিয়ে কোনো ব্যক্তির নামের আগে ‘জনাব’ এবং পরে ‘মহোদয়’ বসিয়ে দেন। এটি বাহুল্য প্রয়োগ। এ ধরনের বাহুল্য প্রয়োগ ভাষার সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতা নষ্ট করে।

সম্বোধনের সিঁড়ি কখনো কখনো রহস্যময় হয়ে ওঠে। একই ব্যক্তিকে সকালে ফোনে বলা হয় ‘স্যার’, বিকেলে ফাইলে লেখা হয় ‘মহোদয়’, আর অফিসের বাইরে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি হয়ে যান ‘সাহেব’। ভুলক্রমে ‘স্যার’-এর স্থলে ‘মহোদয়’ বা ‘সাহেব’ শব্দটি ব্যবহার করলে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। ফলে কাজের চেয়ে কখনো কখনো সম্বোধনই বেশি স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ভুল নোট সংশোধন করা যায়, ভুল বানান কেটে ঠিক করা যায়, ভুল ফাইল আবার পাঠানো যায়; কিন্তু সম্বোধনে ভুল হলে তার অভিঘাত অনেক দীর্ঘস্থায়ী। এই বাস্তবতা থেকে অনেকেই দ্রুত শিখে যান-সব ঋতু, সব অঞ্চল, সব পরিস্থিতির একমাত্র নিরাপদ সম্বোধন হলো ‘স্যার’।

সম্বোধনসূচক বহুলপ্রচলিত আরেকটি শব্দ হলো ‘জনাব’। দাপ্তরিক পত্র, সভার উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিচালনা কিংবা আনুষ্ঠানিক পরিচয় ঘোষণায় ব্যক্তির নামের আগে ‘জনাব’ শব্দটির ব্যবহার প্রায় অলিখিত বাধ্যবাধকতা। শব্দটিতে যথেষ্ট সম্মান আছে, পর্যাপ্ত ভদ্রতা আছে, কিন্তু অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার কোনো ইঙ্গিত নেই। ‘জনাব’ সম্বোধনটি অনেক বেশি পরিমিত, সুশৃঙ্খল ও দাপ্তরিকভাবে নিরাপদ। বলা যায়, এটি সম্মান ও দূরত্ব-দুইয়ের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে থাকা এক ভদ্র কূটনীতিক শব্দ।

‘মহাশয়’ শব্দটির কথা আলাদা করে বলতে হয়। বাংলা ভাষার সম্বোধনভান্ডারে এটি একসময় ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বহুলব্যবহৃত শব্দ। বিশেষ করে দরখাস্ত, আমন্ত্রণপত্র ও বাংলা সাহিত্যে ‘মহাশয়’ সম্বোধনটি ছিল ভদ্রতা ও সম্মান প্রকাশের একটি পরিচিত রূপ। কারও নামের পরে শব্দটি ব্যবহৃত হলে তাতে এক ধরনের সৌজন্য, সংযম ও সামাজিক শালীনতার আভা ফুটে উঠত।

বর্তমানে ‘মহাশয়’ শব্দটির ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। ‘মহাশয়’-এর জায়গা অনেকাংশে দখল করেছে ‘স্যার’, ‘জনাব’ ও ‘মহোদয়’। তবু শব্দটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বাংলা নাটক-সিনেমা, রম্যরচনা, সাহিত্য-সংলাপ এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এখনো এর ব্যবহার দেখা যায়। বিশেষ ভঙ্গি হিসেবেও শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন : “এই যে মহাশয়, এত তাড়াহুড়া কীসের?”; “মহাশয়, আপনি কিন্তু বড় অন্যায় করেছেন’’। এ ধরনের বাক্যে ‘মহাশয়’ শব্দটি বিশেষ আবহ তৈরি করে।

এবার আসা যাক ‘ওস্তাদ’ শব্দে। এই সম্বোধনে এক অদ্ভুত সামাজিক রসায়ন কাজ করে। এখানে সামান্য স্নেহ আছে, খানিকটা অনানুষ্ঠানিকতা আছে, আবার অনেক সময় সামান্য কর্তৃত্ব বা সুবিধাবাদী আপন ভাবও লুকিয়ে থাকে। সম্বোধনকারী যেন বলতে চান-আমি আপনাকে আপন করে ‘ওস্তাদ’ ডাকছি, কিন্তু সেই আপন করার আড়ালে কাজ আদায়ের এক কৌশল রয়ে গেছে। ফলে শব্দটি শুনতে মোলায়েম হলেও এর ভেতরে অনেক সময় একটি নরম অবহেলা লুকিয়ে থাকে।

নিম্নপদস্থ যাঁকে সাধারণত ‘সাহেব’ বলা হয়, শিক্ষার প্রয়োজনে তিনি হয়ে যান ‘ওস্তাদ’। বিশেষ করে প্রশিক্ষণের সময় এই দৃশ্যটি স্পষ্ট হয়। নবীন কর্মকর্তা যখন মাঠে বা ড্রাইভিং সিটে থাকেন, তখন পথ দেখান একজন ব্যক্তি, যিনি পদমর্যাদায় নিম্নে হলেও দক্ষতায় অনেক উঁচুতে। তখন তাঁকে ‘ওস্তাদ’ বলেই সম্বোধন করা হয়।

‘ওস্তাদ’ শব্দটির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও শুদ্ধ ব্যবহার সম্ভবত দেখা যায় সংগীতজগতে। সেখানে ওস্তাদ বা গুরু কোনো সাধারণ সম্বোধন নয়; এটি সাধনা, শিষ্যত্ব, অনুশীলন, পরম্পরা ও শিল্পদক্ষতার এক গভীর স্বীকৃতি। যে মানুষটি সুরের ভেতরের শৃঙ্খলা, তালের ভাঁজ, কণ্ঠের নিয়ন্ত্রণ কিংবা বাদ্যের প্রাণ বুঝে গেছেন, তিনিই হয়ে ওঠেন ওস্তাদ। তাঁর সামনে বসে শিষ্য কেবল গান শেখে না; শেখে ধৈর্য, শৃঙ্খলা, নিবেদন ও সৌন্দর্যবোধ। এখানে ‘ওস্তাদ’ শব্দটির মধ্যে কোনো হালকা অবহেলা নেই; বরং আছে গভীর শ্রদ্ধা। তখন বোঝা যায়, ‘ওস্তাদ’ কেবল সম্বোধন নয়-এটি আসলে অর্জিত মর্যাদার আরেক নাম।

এবার আসা যাক রাষ্ট্রীয় সম্বোধনে। রাষ্ট্রপতিকে বলা হয় ‘মহামান্য’, আর প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যগণকে বলা হয় ‘মাননীয়’। মহামান্য ও মাননীয় কেবল শব্দ নয়; এগুলো শ্রদ্ধা ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শনের ভাষা। এসব সম্বোধন এক ধরনের রাষ্ট্রাচার।

কখনো কখনো বিশেষ পরিস্থিতিতে সম্বোধন ছাড়াও কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। যেমন : ‘ফাইলটা একটু দেখবেন’; ‘বিষয়টা যদি বিবেচনায় নিতেন’; ‘আপনার একটু দিকনির্দেশনা পেলে ভালো হতো’ প্রভৃতি। এখানে ‘আপনি’ আছে, ‘বিবেচনা’ আছে, ‘কর্তৃপক্ষ’ আছে-শুধু সম্বোধনের দায় নেই। একে বলা যায় বাচনিক কূটনীতি। তবে, কম ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা যদি অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে এ ধরনের সম্বোধনহীন পদ্ধতিতে যোগাযোগ করেন, তাহলে ফলাফল নেতিবাচক হতে পারে।

এবার আসা যাক সেবাপ্রার্থী ও সরকারি কর্মকর্তার সম্বোধনের দিকে। আমাদের সামাজিক ও দাপ্তরিক সংস্কৃতিতে এখনো সেবাপ্রার্থী ও সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে গ্রহণযোগ্য সম্বোধনের একটি সুস্পষ্ট রীতি গড়ে ওঠেনি। এজন্য ভাষার সীমাবদ্ধতার চেয়ে আমাদের সামাজিক অভ্যাস ও পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতিই বেশি দায়ী। অনেক কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা দপ্তরে আসা সেবাপ্রার্থীর মুখে ‘স্যার’ শব্দটি শোনার জন্য এক ধরনের গোপন আকাঙ্ক্ষা লালন করেন। কোনো সেবাপ্রার্থী যদি কোনো কর্মকর্তাকে ‘ভাই’ বলেন, কিংবা কোনো নারী কর্মকর্তাকে ‘আপা’ বলেন; তখন বাতাসে এক ধরনের অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো কর্মকর্তা সরাসরি বলে বসেন-‘আমি আপনার কেমন ভাই/আপা?’ তখন সেবাপ্রার্থী উত্তর খুঁজে পান না। অবশ্য উল্টো চিত্রও আছে। অনেক সরকারি কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে ‘স্যার’ শব্দটি শুনলে বিব্রত বোধ করেন। কোনো কোনো কর্মকর্তা আবার সেবাপ্রার্থীকে উল্টো ‘স্যার’ সম্বোধন করেন।

সরকারের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে-সেবাপ্রার্থী সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করবেন না। কথাটি যুক্তিসংগত। কারণ, সরকারি চাকরিজীবী জনগণের সেবক। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা এত সরল নয়। একজন সেবাপ্রার্থী কর্মকর্তাকে কী বলে সম্বোধন করবেন-তা কেবল ভাষাগত বিষয় নয়; এটি সেবাপ্রার্থীর বয়স ও সামাজিক অবস্থানগত বিষয়। অনেক সময় সম্বোধনের বিষয়টি কর্মকর্তার বয়সের ওপরও নির্ভর করে।

একজন প্রবীণ ব্যক্তি উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে হয়তো স্বভাবতই ‘বাবা’, ‘সাহেব’ বা অন্য কোনো সম্বোধন করবেন। একজন মধ্যবয়সি ব্যক্তি হয়তো বলবেন ‘ভাই’ বা ‘আপা’। আবার, এক স্কুলপড়ুয়া ছেলে যদি জেলাপ্রশাসক কিংবা কলেজের অধ্যক্ষকে গিয়ে খুব আপন ভঙ্গিতে বলে-‘ভাই, আমাকে একটা বিষয়ে সাহায্য করেন।’ তাহলে সেটিও খুব স্বাভাবিক বা মানানসই দেখাবে না। কারণ, সব সম্বোধন সব মুখে, সব বয়সে, সব প্রেক্ষাপটে সমানভাবে মানায় না।

এখানে একটি বড় প্রশ্ন আসে-সম্মান কি কেবল শব্দে, নাকি আচরণে? বাস্তবতা হলো-সম্মান শুধু সম্বোধনের শব্দে থাকে না; থাকে কণ্ঠস্বর, ব্যবহার, ধৈর্য ও মনোভাবে। কাউকে ‘স্যার’ বলে অপমান করা যেমন সম্ভব, তেমনি কাউকে ‘ভাই’, ‘আপা’ কিংবা ‘মহোদয়’ বলেও আন্তরিক সম্মান দেখানো সম্ভব। সম্বোধনসূচক শব্দটি ফাঁপা হয়ে যায় তখনই, যখন তার ভেতরে থাকে বিরক্তি, তাচ্ছিল্য বা স্বার্থের হিসাব। আবার সরল কোনো সম্বোধনও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে, যদি তার ভেতরে থাকে আন্তরিক শ্রদ্ধা।

সম্বোধন আসলে ক্ষমতারও ভাষা। কে, কাকে, কী বলে ডাকবে-এই ছোট্ট প্রশ্নের ভেতরেই অনেক সময় লুকিয়ে থাকে কর্তৃত্ব, ভীতি, আনুগত্য, শ্রেণিবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্বের বড় হিসাব। কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি কাজের মান, যুক্তি বা দক্ষতার চেয়ে সম্বোধনের ভদ্রতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তবে সেখানে ধীরে ধীরে পেশাদারিত্ব ক্ষয় হতে থাকে। মানুষ তখন কাজের চেয়ে শব্দ বাছাইয়ে বেশি সতর্ক হয়ে পড়ে। এই জায়গাতেই ‘স্যারতন্ত্র’ ভাষার সীমা ছাড়িয়ে ক্ষমতা-সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

সম্বোধন আসলে সম্পর্কের সেতুবন্ধ, শৃঙ্খলার মানচিত্র এবং সামাজিক ভারসাম্যের সূক্ষ্ম নির্দেশক। অফিসপাড়া থেকে রাষ্ট্রীয় আসন পর্যন্ত প্রতিটি সম্বোধনের নিজস্ব তাপমাত্রা, ওজন ও অর্থ রয়েছে। তবে একটি সুস্থ সমাজে সম্বোধন ভয়ের ভাষা হবে না; হবে ভদ্রতার ভাষা। একটি সুস্থ দাপ্তরিক সংস্কৃতিতে ‘স্যার’ শব্দটি নিষিদ্ধ হওয়া জরুরি নয়; জরুরি হলো-সেটিকে বাধ্যতামূলক আনুগত্যের ভাষায় পরিণত না করা। কারণ, প্রকৃত সম্মান শব্দে নয়-আচরণে, ব্যবহারে এবং মানসিকতায়। 
লেখক : বিসিএস তথ্য ক্যাডারের সদস্য এবং উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে কর্মরত।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad