Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৯-৪-২০২৬, সময়ঃ সকাল ০৮:৫৮
  • ৫৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

ব্যবসায়ী ও ভাসমান বিক্রেতাদের দখলে শহরের সড়কগুলো

ব্যবসায়ী ও ভাসমান বিক্রেতাদের দখলে শহরের সড়কগুলো

ভবতোষ রায় মনা ►

একটিমাত্র প্রধান সড়ককে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে গাইবান্ধা শহর। শহরের যাতায়াত ব্যবস্থার প্রধান মেরুদণ্ড এই সড়কটিই। কিন্তু বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ভাসমান বিক্রেতাদের দখলে চলে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে এই জটলা আর যানজটের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সড়কটি উন্মুক্ত রাখা এখন সময়ের দাবি। ভুক্তভোগী শহরবাসী দ্রুত জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের স্টেশন রোড, দাশবেকারি মোড়, সার্কুলার রোড, ডিবি রোড, খন্দকার মোড়, পুরাতন বাজারের উভয়গেট, পিকে বিশ্বাস রোড, পার্ক রোড, সাঘাটা রোড, নাকাইহাট রোড, সাদুল্লাপুর রোড এবং রেলগেট এলাকাসহ পৌরসভার অধিকাংশ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশের ফুটপাত এখন আর পথচারীদের দখলে নেই। পৌর পার্কে চারপাশে ফুচকা, জুতা, কসমেট্রিক ও ভ্যানগাড়ীতে পোশাকের ভাসমান দোকান রয়েছে অসংখ্যাক। মধ্যপাড়া, সান্দারপট্রি, হকার্স মার্কেটসহ বেশকিছু সড়কের পাশ্বের ব্যবসায়ীরা ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তার অনেকটা অংশ দখল করে দোকানের মালামাল সাজিয়ে রেখেছেন। কোথাও কোথাও স্থায়ী দোকানের সামনে পাকা ঢালাই করে জায়গা দখল করা হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সড়কের ওপর অবৈধভাবে বসানো ভাসমান দোকান ও ভ্যানগাড়ি। ফলে প্রশস্ত সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে সরু গলির মতো।

ভুক্তভোগী পথচারী শফিকুল ইসলাম জানান, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। বাধ্য হয়েই মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের হাঁটাচলা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। 

স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি যেন দেখার কেউ নেই। গাইবান্ধা মহিলা কলেজ, গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এই যানজটের কবলে পড়তে হয়। অভিভাবক শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কে যেভাবে যানবাহন ও দোকানের মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে, তাতে সন্তানদের একা বিদ্যালয়ে পাঠাতে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বাধ্য হয়ে স্কুলে দিয়ে ও নিয়ে আসার কাজটি করতে হয়।

শহরের স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল বছরের পর বছর ধরে ফুটপাত ও রাস্তার জায়গা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও তা নামমাত্র। কয়েকদিন যেতে না যেতেই দখলকারীরা পুনরায় জায়গাগুলো দখলে নিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হানিফ সরদার জানান, আমরা কয়েকবার তাদের মৌখিক ভাবে দখলমুক্ত করার জন্য বলে এসেছি। সর্বশেষ প্রশাসক স্যার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দখলমুক্ত করার জন্য বলে এসেছে। তার পরেও তারা দখলমুক্ত করছে না। এখানে কিছু দোকানদার আছে তারা পৌরসভাকে কোনো হিসেবেই করে না। এখন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ফুটপাত রাস্তার একটি অপরিহার্য উপাদান। এই ক্ষেত্রে যদি কোথায় ফুটপাত অপদখল হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে যানজট নিরসন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দ্রুতই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad