
দিনাজপুর প্রতিনিধি ►
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধা অলেদা বেওয়া (৭০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন নাতিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লুট হওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে—একটি স্বর্ণের হার, এক জোড়া বালা, এক জোড়া চেইন, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া ঝুমকা এবং এক জোড়া রুপার নুপুর।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ঘোড়াঘাট উপজেলার পুরইল গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ এর ছেলে মোঃ ফজলে রাব্বী (২৯), দিনাজপুর সদরের বাহাদুর বাজার এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মোঃ মুসফিকুর রহমান রাজ (৩৮) এবং ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোঃ নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)। শান্ত নিহত অলেদা বেওয়ার আপন নাতি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন জুয়ার আসক্তির কারণে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। আর্থিক সংকট কাটাতে তারা চুরির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন সকালে ডুগডুগি বাজারে বসে পরিকল্পনার সময় রাব্বী জানায়, তার দাদীর বাড়িতে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ রয়েছে এবং তিনি দিনের বেলায় একাই থাকেন।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রথমে রাজকে গোকুল নগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শান্তকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার সাভার থেকে রাব্বীকেও গ্রেফতার করা হয়। এ সময় লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য প্রেরণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল বিকাল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে ঘোড়াঘাট থানার পালশা ইউনিয়নের পূর্ব পালশা গ্রামে নিজ বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় অলেদা বেওয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রথমে তারা জানালা দিয়ে দেখে বৃদ্ধা ঘুমিয়ে আছেন। পরে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় শান্ত বাইরে পাহারায় থাকলেও রাব্বী ও রাজ ঘরে ঢুকে পড়ে।
একপর্যায়ে বৃদ্ধা জেগে উঠলে তারা তার মুখ চেপে ধরে, চোখে টেপ লাগায় এবং হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর ঘরের স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটের সময় বৃদ্ধা গোঙাতে থাকলে শান্তকে ডেকে আনা হয়। পরে তিনজন মিলে তার মুখ চেপে ধরে রাখলে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর তারা দ্রুত পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।