
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ►
দিনাজপুর ফুলবাড়ীকে শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী বুড়াচিন্তামণ ঘোড়ার মেলা জমে উঠেছে। মাসব্যাপী এই মেলাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছরই এই মেলার আয়োজন করা হয়।
প্রতি বছর বাংলা সনের বৈশাখ মাসের ৯ বা ১০ তারিখ থেকে শুরু হয়ে মাসজুড়ে চলে এ মেলা। ১৩ বৈশাখ থেকে শুরু হয় কেনাবেচার মূল কার্যক্রম। ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে বসছে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। যদিও মেলা এক মাসব্যাপী চলে, তবে পশুর মেলা মূলত ১০ দিন স্থায়ী হয়।
এই মেলায় ঘোড়া ছাড়াও মহিষ, গরু, ভেড়া ও ছাগল কেনাবেচা হয়। তবে বর্তমানে অন্যান্য পশুর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এটি মূলত ঘোড়ার মেলা হিসেবেই বেশি পরিচিত। আয়োজকদের মতে, এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘোড়া কেনাবেচার মেলা। প্রায় ৮ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এ মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকশ’ ঘোড়া নিয়ে আসেন বিক্রেতারা।
মেলায় দেশি-বিদেশি নানা জাতের ঘোড়ার সমাহার দেখা যায়। দৌড়, গঠন ও বুদ্ধিমত্তায় এগিয়ে থাকা এসব ঘোড়া ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। পছন্দের ঘোড়া কিনতে ক্রেতাদের মধ্যে চলছে দরকষাকষি। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সামনে মাঠে ঘোড়ার দৌড় দেখিয়েও যাচাই করা হচ্ছে।
রংপুরের তারাগঞ্জ থেকে মজনু মিয়া পাঁচটি ঘোড়া নিয়ে এসেছেন। তার একটি ঘোড়ার দাম চাওয়া হচ্ছে ৭ লাখ টাকা। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থেকে আসা হাসান আলী জানান, তিনি ৪ লাখ টাকা দাম চাইলেও ৩ লাখ পেলে বিক্রি করবেন।
অন্যদিকে, নওগাঁ জেলা থেকে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে বিকল্প বাহন হিসেবে ঘোড়া ব্যবহারের চিন্তা করছেন তারা। এ কারণে মেলায় এসে পছন্দের ঘোড়া খুঁজছেন। মেলায় গাইবান্ধা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা অংশ নিচ্ছেন। কেউ কেউ একাধিক ঘোড়া নিয়ে এসে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন।
মেলার ইজারাদার সফিকুল ইসলাম জানান, মেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ, পানি ও প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। কেনাবেচার রশিদের মূল্যও সহনীয় রাখা হয়েছে।স্থানীয় প্রবীণ শিক্ষক ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. দখিল উদ্দিন মণ্ডল বলেন, এই মেলা বহু বছরের ঐতিহ্য বহন করছে এবং একসময় বিদেশ থেকেও উন্নত জাতের ঘোড়া এখানে আনা হতো।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ জানান, মেলা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাসান বলেন, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মেলা পরিচালিত হচ্ছে এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।