Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে
  • ৩৭ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

বিরাম নেই পত্রিকা বিক্রেতাদের: খবর বিলিই যাদের জীবন

বিরাম নেই পত্রিকা বিক্রেতাদের: খবর বিলিই যাদের জীবন

ভবতোষ রায় মনা ►

ভোর হতেই শুরু হয় পত্রিকা বিক্রেতাদের আনাগোনা। গাইবান্ধা জেলা শহরের অলিগলিতে সাইকেলের বেল বাজিয়ে পত্রিকা বিলি করছেন একদল মানুষ। আমরা তাদের পত্রিকা বিক্রেতা বা হকার নামে চিনি। দেশ-বিদেশের সব খবর পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই যাদের কাজ, তাদের নিজেদের দুঃখ-কষ্টের খবর শোনার যেন কেউ নেই।

সকাল হওয়ার আগেই যখন শহরবাসী ঘুমে মগ্ন, তখন গাইবান্ধা রেল স্টেশন সংলগ্ন পত্রিকা এজেন্টদের আড়তে ভিড় জমান হকাররা। সেখান থেকে জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকা সংগ্রহ করে রোদ, বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে তারা ছুটে চলেন গ্রাহকের দুয়ারে দুয়ারে। এছাড়াও চলতি পথেও পত্রিকা বিক্রি করে থাকেন। সরকারি ছুটিতে যখন সব অফিস-আদালত বন্ধ, তখনো এই মানুষগুলোর কপালে জোটে না এক মুহূর্তের বিশ্রাম।

গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোড এলাকায় কথা হয় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করা হকার আজাহার আলীর সঙ্গে। ক্লান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমাগো কাম বন্ধ করলে পেটে ভাত জুটবো না। সকাল থেইকা দুপুর পর্যন্ত দৌড়াইয়া যা কামাই হয়, তা দিয়া এই বাজারে সংসার চালানো কঠিন হয়া পড়ছে।
পত্রিকা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে তাদের দৈনিক আয় মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মতো। চাল, ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই সামান্য আয়ে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। পত্রিকা ও এজেন্টের পক্ষ থেকে যে কমিশন দেওয়া হয়, তা গত কয়েক বছরে বাড়েনি বললেই চলে। অথচ কাগজের দাম বৃদ্ধিতে গ্রাহক পর্যায়ে পত্রিকার দাম বেড়েছে।

গাইবান্ধা জেলা পত্রিকা বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী মিয়া বলেন, ডিজিটাল যুগের প্রভাবে কাগজের পত্রিকার চাহিদা দিন দিন কমছে। মানুষ এখন স্মার্টফোনেই তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে যায়। ফলে গাইবান্ধার অনেক পুরোনো হকার পেশা পরিবর্তন করে রিকশা চালানো বা অন্য কোনো কায়িক শ্রমে যুক্ত হচ্ছেন। 

গাইবান্ধা জেলা পত্রিকা বিক্রেতা হকার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক মিয়া জানান, হকাররা মূলত অসংগঠিত শ্রমিক। অসুস্থ হলে বা কোনো বিপদ হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো সুনির্দিষ্ট কোনো তহবিল নেই। পত্রিকা মালিক পক্ষ থেকেও তাদের সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
পত্রিকা বিতানের এজেন্ট আব্দুর রহমান জানান, জেলা শহরে প্রায় ৪০ জন পত্রিকা বিক্রেতা রয়েছে। যারা প্রতিদিন সকালে পত্রিকা বিতান থেকে জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকা নিয়ে গ্রাহকদের হাতে পৌছে দিচ্ছেন। 

গাইবান্ধার পত্রিকা হকারদের জীবন কাটে অবহেলা আর অনিশ্চয়তায়। তথ্যপ্রবাহের এই সেতুবন্ধনকারীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad