Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ১০ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

দিনাজপুরে গমের ৫ নতুন জাত উদ্ভাবন

দিনাজপুরে গমের ৫ নতুন জাত উদ্ভাবন

সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ►

দেশে গমের উৎপাদন বাড়াতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে দিনাজপুর গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ৫টি উচ্চ ফলনশীল গমের জাত। দিনাজপুর গবেষকদের দাবি, এসব নতুন জাতের মাধ্যমে উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে, পাশাপাশি কমবে বিদেশ থেকে গম আমদানির চাপ। 

প্রতিবছর দেশে গমের চাহিদা প্রায় ৮০ থেকে ৮২ লাখ মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হয় মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন। ফলে ঘাটতি পূরণে বিদেশ থেকে ৬৮ থেকে ৭০ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করতে হয়, যার জন্য ব্যয় হয় প্রায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো ব্যাপকভাবে চাষ হলে এই নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

দিনাজপুর গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, নতুন ৫টি গমের জাত উচ্চ ফলনশীল হওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি, তাপ ও লবণাক্ততা সহনশীল, খরা প্রতিরোধী এবং রোগবালাই ও পোকামাকড় প্রতিরোধী। এসব জাত জিংক সমৃদ্ধ হওয়ায় পুষ্টিগুণেও এগিয়ে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো-একই জমিতে বছরে ৩ থেকে ৪টি ফসল আবাদ করা সম্ভব। 

নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর নাম রাখা হয়েছে-বিডব্লিউএমআরআই-১, বিডব্লিউএমআরআই-২ বিডব্লিউএমআরআই-৩, বিডব্লিউএমআরআই-৪ এবং বিডব্লিউএমআরআই-৫। এগুলোতে প্রতি হেক্টরে ৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নতুন জাতগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চর, পাহাড়ি ও লবণাক্ত এলাকায় সহজেই চাষ করা সম্ভব। এগুলোতে পানি, সার ও কীটনাশক কম লাগে, ফলে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ নিশ্চিত হয়। 

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে এসব জাত কৃষকের মাঠে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে চাষ নিশ্চিত করা গেলে দেশে গম উৎপাদনে নতুন বিপ্লব ঘটবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। চলতি মৌসুমে দেশের প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কৃষকের মাঝে প্রদর্শনী ও প্রণোদনা হিসেবে এসব নতুন জাতের বীজ বিতরণ করা হয়। মাঠ পর্যায়ে চাষ করে ইতোমধ্যে ভালো ফলনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন কৃষকরা। দিনাজপুর সদর উপজেলার সদরপুর গ্রামের কৃষক দবিরুল ইসলাম বলেন, আগে গমের ফলন কম হওয়ায় চাষে আগ্রহ কম ছিল। এখন নতুন জাতের গম চাষ করে কম খরচে বেশি ফলন পাচ্ছি। একই এলাকার কৃষক মাইন উদ্দিন জানান, আগে প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৮ মণ ফলন হতো, এখন হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ মণ। রোগবালাইও অনেক কম। সদরের নশিপুর এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নতুন জাতের গম চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। সব কৃষকের মাঝে এই বীজ বিতরণ করা হলে দেশের উপকার হবে। 

দিনাজপুর গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মাহফুজুর রহমান বাজাজ বলেন, গত ৫ বছরে আমরা ৫টি নতুন উচ্চ ফলনশীল গমের জাত উদ্ভাবন করেছি। এসব জাত স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি এগুলো ব্লাস্টসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী। তিনি আরও জানান, দেশে গমের গড় ফলন যেখানে হেক্টরপ্রতি ৩.৮৬ মেট্রিক টন, সেখানে নতুন জাতগুলোতে ৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad