
নিজস্ব প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিকে আরও বেগবান করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) সকালে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহমুদুন নবী টিটুল।
সভায় বক্তারা বলেন, উত্তরবঙ্গের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলার কোটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং ঢাকার সাথে দ্রুততম যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এই সেতুর বিকল্প নেই। সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার, ফুলছড়ি প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক শফিউদ-দৌলা আকন্দ, সেতু বাস্তবায়ন ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম টিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, নাজমুল হুদা শাহিন এবং জাহিদুল ইসলাম।
সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক ছামিউল ইসলাম। সাঘাটা থানা থেকে আগত প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোস্তাক আহম্মেদ মিলন, জসিউল করিম পলাশ, ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল (ফারুক আর্মি), জাহাঙ্গীর আলম সরকার, মিজানুর রহমান মিঠু, শওকত মীর্জা রোস্তম, সাঘাটা ইউনিয়ন প্রতিনিধি সামছুল হক এবং সাইফুল ইসলাম সাজু সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভায় সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মোট ৬৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন এবং মূল আলোচনায় ২৬ জন বক্তা তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। সভায় আগামী দিনে আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১৩টি ইউনিয়নে দ্রুত প্রতিনিধি দল গঠন ও গণসংযোগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া ঈদের ৩য় দিনে বিশাল মানববন্ধন ও নৌপথে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত নদীর চ্যানেল পরিদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই সাথে জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জনাব মাহমুদুন নবী টিটুল বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের বাঁচার দাবি। দল-মত নির্বিশেষে আমাদের এই আন্দোলনকে সফল করতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন যে, এই সেতু বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আধুনিক শিল্পায়ন ও পর্যটন গড়ে তোলা হবে, যা উত্তরবঙ্গকে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুরে রূপান্তরিত করবে। সভার সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান (বাবু) সভার সার্বিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির রূপরেখা উপস্থাপন করেন। সভা শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ যমুনা নদীর প্রস্তাবিত সেতুর স্থান ও সংলগ্ন ক্রস বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন।