Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে
  • ১০ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

দিনাজপুরে ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিশু ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

দিনাজপুরে ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিশু ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

দিনাজপুর প্রতিনিধি ►

এবার দিনাজপুরে ধর্ষণের শিকার হয়ে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে ১২ বছরের শিশু। প্রতিবেশী ৬৫ বছরের এক ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের ওই ঘটনা মিমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টাও হয়েছে। মিমাংসায় ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও ২ শতক জমি লিখে দেয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে শিশুটি চায় ঘটনার উপযুক্ত বিচার। সংবাদকর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিবারসহ পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজ, আর পুলিশ বলছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্ষণের শিকার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত ওই শিশুটির বাড়িতে যাওয়া হলে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরা। একে একে মুখ খুলতে থাকেন তারা। ১২ বছর বয়সী শিশুর পেটে বড় হচ্ছে আরেক শিশু। এলাকারই প্রতিবেশী ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্তা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীও। জানিয়েছেন, বিষয়টি গোপনে মিমাংসা করা হয়েছে। তবে এমন ঘটনায় মিমাংসা না, উপযুক্ত বিচার চায় এলাকাবাসী। পাশাপাশি ওই শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাওয়ারও দাবি জানিয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৬ মাস আগে শীতকালীন সময়ে নানীর জন্য দোকানে পান আনতে গিয়েছিল শিশুটি। পথিমধ্যে একই এলাকার নূর ইসলাম শিশুটিকে মুখ চেপে ধরে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি না করতে দেওয়া হয় হত্যার হুমকিও। এরপর আরও কয়েকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করে ওই ব্যক্তি।

গত এক মাস আগে শিশুটির চেহারায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে শিশুটির মামী। পরে পরীক্ষা করে দেখেন যে শিশুটি অন্ত:সত্বা। এরপর শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব ঘটনা খুলে বলে। এই ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে, সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয়দের মাধ্যমে মিমাংসার নামে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। ৬৫ বছরের অভিযুক্তের সাথে ওই নাবালিকার হয় কথিত বিয়েও। একটি খাতাতে ওই শিশুটির সই-স্বাক্ষর নিয়ে বলা হয় বিয়ে হয়ে গেছে। বিনিময়ে দেড় লাখ টাকা মোহরানা ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় অভিযুক্ত।

কথা হলে ওই শিশুটি বলে, ‘আমি সন্ধ্যায় পান কিনতে যাই। এসময় আমাকে হঠাৎ করে এসে আমার মুখ চেপে ধরে আমাকে চিৎকার করতে দেয়নি। পরে আমার সাথে খারাপ কাজ করে। এরপর এ বিষয়ে আমি কাউকেই কিছু বলি নাই। আমার পেটের ভিতর কি যেন থলবল (নড়াচড়া) করে। খেতে গেলে বমি বমি লাগে। গত মাসে ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেন এখন পাঁচ মাস হয়েছে। বর্তমানে আমর কোনো চিকিৎসা চলছে না। আমি এর বিচার, তার ফাঁসি চাই। যেদিন মীমাংসা হয় সেদিন আমাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মতামত নেয়া হয়নি। আমি তাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে চাই না। সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হলে আমি তাকে সন্তানটি ফেরত দিয়ে চলে আসবো, তালাক দিবো। 

এই ঘটনায় অভিযুক্ত নূর ইসলামের বাড়িতে যাওয়া হলে তার বাড়িতে তালা দেয়া দেখতে পাওয়া যায়। এলাকাবাসী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলেই বাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তান সবাই মিলে পালিয়ে গেছে। তার বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার রাতেই ওই মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে ভিকটিম ও পরিবারের সাথে কথা বলেন ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি শীতের সময়। ১২ বছর শিশুকে ফুসলিয়ে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটি অন্ত:সত্বা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে লোকলজ্জার ভয়ে এবং মেয়েকে দেড় লাখ টাকা ও ২ শতক জমি লিখে দেয়ার কথা বলে কাজী ডেকে বিয়ের ব্যবস্থা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কথা না রাখায় বিষয়টি জানাজানি হয়। পরিবারের সদস্যরা আমাদেরকে সকল ঘটনা বলেছেন। এই সংক্রান্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে আসামীকে গ্রেফতার করা হবে। আপোষ-মিমাংসার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা হবে, মামলা হওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে যার যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন প্রয়োজন সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad