Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে ফুলছড়ি ঘাটে মহা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবিতে ফুলছড়ি ঘাটে মহা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি ► 

গাইবান্ধার ফুলছড়ি (তিস্তামুখ ঘাট) ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ, ফুলছড়িতে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠা এবং চর ট্যুরিজম (নদী-পর্যটন) চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও নৌকা মিছিল কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রবিবার সকাল ১১:০১ ঘটিকায় ফুলছড়ি ঘাট ক্রস বাঁধ সংলগ্ন যমুনা নদীর তীর ও চরাঞ্চলে এক বিশাল মানববন্ধন এবং নদীপথে শত শত সুসজ্জিত নৌকার সমন্বয়ে নৌকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 

তীব্র রোদ ও প্রখর গরম উপেক্ষা করে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার সর্বস্তরের চরাঞ্চলবাসী, ঢাকার চাকুরীজীবী, তরুণ সমাজ, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে ফুলছড়ি ঘাট এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ আজ আর কেবল এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার দাবি নয়, এটি উত্তরবঙ্গের অবহেলিত কোটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সেতু ও কৃষিভিত্তিক ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের চরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে, তৈরি হবে লাখো যুবকের কর্মসংস্থান। 

কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এবং গাইবান্ধা উদ্যোক্তা ফোরাম (জিইউএফ)-এর ফাউন্ডার ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান (বাবু)। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষের দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য। আমরা শুধু যোগাযোগ নয়, বরং চরাঞ্চলের স্থায়ী নদী শাসন, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন এবং চর ট্যুরিজম সৃষ্টির মাধ্যমে একটি স্বাবলম্বী মডেল অঞ্চল গড়তে চাই। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চরের মানুষ ঘরে ফিরবে না। 

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল বলেন, উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলাতে তিস্তামুখ ঘাটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে এটি একটি গণদাবি। অবিলম্বে এই মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু করতে হবে। 

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফুলছড়ি উপজেলা শাখার আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খুশু, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল আলম সরকার এবং ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম.এ সবুর সরকার, গজারিয়া ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা, সাংবাদিক শফিউদ্দৌলা আকন্দ (শফি) প্রমুখ। 

সমাবেশ শেষে যমুনা নদীর বুকে শত শত নৌকার এক অভূতপূর্ব ও সুসজ্জিত নৌকা মিছিল বের করা হয়। সুসজ্জিত নৌকা থেকে চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন যমুনার দুই পার। বক্তারা অবিলম্বে এই জনগুরুত্বপূর্ণ ও অর্থনৈতিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

মাধুকর/এমআর

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad