Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

পলাশবাড়ীতে চামড়া প্রতি ২শ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের

পলাশবাড়ীতে চামড়া প্রতি ২শ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের

পলাশবাড়ী প্রতিনিধি ►

সারা বছর জুড়ে চামড়া কেনাবেচা হলেও ঈদুল আযহা অর্থাৎ কোরবানি ঈদ পরবর্তী সময়ে জমে ওঠে চামড়ার হাট। চামড়ার হাটের জন্য বিখ্যাত উত্তরাঞ্চলের মধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী কালিবাড়ী হাট। এবার হাটটির ইজারা মূল্য ছিল ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। 

বছর জুড়ে চামড়া ব্যবসায়ীরা ঢিলেঢালা ব্যবসা করে আসলেও লাভের স্বপ্ন নিয়ে বুক বেঁধে অপেক্ষা করেন ঈদুল আযহা কোরবানির ঈদ পরবর্তী সময়ের। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চামড়ার হাটটি জমে ওঠে ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনাবেচার ধুম। তবে গেল কয়েক বছর ধরে চামড়া কেনাবেচায় লোকসান গোনার কারনে দিন দিন জৌলুস হারাচ্ছে হাটটির। নতুন সরকারের সময়ে এবছর ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিলেন ব্যবসায়ীরা। চামড়া ব্যবসায়ীরা সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত মূল্যকে লক্ষ্য করে চামড়া কিনলেও সে দামে বিক্রি করতে পারছে না অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। ফলে এবছরও চামড়া প্রতি ২শ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের একারনে লাভের স্বপ্ন তো দুরের কথা কিভাবে লোকসানের হিসাব মিলাবে এ নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন তারা। 

চামড়া ব্যবসায়ী গোলাপ চাঁন (৫০), গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী এলাকায় বাড়ি। হাটে চামড়ার স্তূপের পাশে চিন্তায় নির্বাক হয়ে আছেন তিনি। এবিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ধারদেনা করে অনেক আশা নিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ৭০০ পিস চামড়া কিনেছিলাম। হাট শুরু হয় সকাল থেকে। লাভের স্বপ্ন নিয়ে সেই লক্ষ্যে একদিন আগেই অনেক কষ্টে নৌকায় করে আসি। 

কিন্তু হাটে মূল ক্রেতার বদলে চামড়া কিনছেন তাদের প্রতিনিধিরা। তারা যে দাম দিচ্ছেন তাতে চামড়া প্রতি ২শ টাকা লোকসান হচ্ছে। ঈদের পূর্বে যে চামড়ার দাম ছিল এক হাজার টাকা, এখন সেই চামড়ার দাম বলা হচ্ছে ৭ থেকে ৮শ টাকা। তিনি আরও জানান, চামড়া কেনার পর গায়ে লেগে থাকা মাংস তোলা, ধোয়া, লবণ দেওয়া ও পরিবহনসহ চামড়া প্রতি খরচ হয় প্রায় ২শ ৫০ টাকা। সব মিলিয়ে চামড়া প্রতি কেনা পড়েছে ৮০০ টাকা। অথচ দাম বলা হচ্ছে ৬০০ টাকা। 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আমবাড়ী থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ী সুবাস চন্দ্র জানান, সরকার নির্ধারিত প্রতি বর্গফুট ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রির টার্গেটে চামড়া কিনেছি। কিন্তু হাটে চামড়া কেনা হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে। ফলে চামড়া প্রতি প্রায় ২০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। 

এদিকে, লোকসানে চামড়া বিক্রি করছেন খুদে ব্যবসায়ীরা। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্যে চামড়া বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, তারা ট্যানারি মালিকদের আশ্বস্ত করেন আপনারা যে দামে চামড়া কিনবেন, সেই চামড়া তার চেয়ে কম দামে আপনাদের আমরা কিনে দেব। বাস্তবে হচ্ছেও তাই। সে কারণে ট্যানারি মালিকরা সরেজমিনে হাটে এসে আর চামড়া কেনেন না। 

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান। তিনি সাভার হেমায়েতপুরের আর কে লেদার কমপ্লেক্স ট্যানারির ক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, হাটে উন্মুক্তভাবে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে। এখানে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়া কেনাবেচার কোনো সুযোগ নেই। 

সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় করা হচ্ছে না-এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি চামড়ার এ থেকে এইচ পর্যন্ত মোট ৮টি গ্রেড রয়েছে। এ ক্যাটাগরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ৬০ টাকা দরেই ক্রয় করা হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তী গ্রেডের চামড়াগুলো দাম কম তথা ২০ থেকে ৩০ টাকা ফুটের চেয়ে বেশি দরে ক্রয়ের সুযোগ নেই। 

এ প্রসঙ্গে কালিবাড়ী হাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিনু মন্ডল জানান, সারাবছর সপ্তাহের প্রতি বুধবার চামড়ার হাট বসে। কিন্তু ঈদুল আযহা কোরবানি ঈদ পরবর্তী তিন-চারটি হাটে ব্যাপক চামড়া আমদানি হয়ে থাকে। ভোর থেকে শুরু করে ক্রয় বিক্রয় চলে রাত পর্যন্ত। আগামী হাটে আরও বেশি চামড়া আমদানি হবে। আশা করছি সে হাটে তুলনামূলক বেশি ক্রেতা চামড়া কিনতে ঢাকা থেকে আসবে। পাশাপাশি চামড়ার দামও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad