Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

‘কালো জাদু’ নিয়ে সন্দেহের বশে গৃহকর্মীকে হত্যা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

‘কালো জাদু’ নিয়ে সন্দেহের বশে গৃহকর্মীকে হত্যা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক ►
৫০ বছর বয়সি মনীশ গুপ্ত চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞ। দিল্লীর অভিজাত মাউন্ট কৈলাশ এলাকায় তার বাসা, প্র্যাকটিসও করেন একই এলাকায়। মনীশ গুপ্তের স্ত্রীও চিকিৎসক, তিনি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা দেন। দুই ব্যস্ত চিকিৎসককে ঘর সামলাতে তাই নির্ভর করতে হয় গৃহকর্মীর ওপর। ১৫ বছর ধরে তাদের ঘর সামলাতেন মীনা নামে ৪৫ বছর বয়সি এক গৃহকর্মী।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মনীশ গুপ্ত তার বাসার ছাদে প্রথমে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে পরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন মীনাকে। তারপর বসেছিলেন, মরদেহের পাশে। পুলিশ এসে যখন রক্তে ভেসে যাওয়া মীনার মরদেহ উদ্ধার করেন, তখন মনীশ গুপ্তও আত্মসমর্পণ করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মনীশ জানিয়েছেন, মীনা কালো জাদু (ব্ল্যাক ম্যাজিক) চর্চা করতেন। এ কারণে তার ঘরে অশান্তি হতো।

তার দাবি, মীনার জাদুটোনার কারণে ঘরের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তাই তিনি মীনাকে হত্যা করেছেন। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ কালো জাদুর কোনো প্রমাণ পায়নি। ডা. গুপ্ত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক কথা বলছিলেন। তাই পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ডা. গুপ্ত এবং মনীশার মধ্যে অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা, তাও পুলিশের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। পুলিশের ধারণা, ঘটনার আগে মনীশের সঙ্গে মীনা তর্কে জড়িয়েছিলেন। পারিবারিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ডা. মনীশ গুপ্ত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তীব্র বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এছাড়া তিনি নানা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। সবসময় তিনি দুশ্চিন্তা করতেন, সবাইকে সন্দেহ করতেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে মনীশ তার স্ত্রীর কাছে মীনা কালো জাদু চর্চা করে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি মীনাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে বলেছিলেন।

কিন্তু তার স্ত্রী তাতে রাজি হননি। তিনি উল্টো মনীশকে স্মরণ করিয়ে দেন, মনীশের মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসার সময় মীনা তাদের কতটা সহায়তা করেছিলেন। তাতেও শান্ত হননি মনীশ। বরং ঘরে গৃহকর্মীর চেয়ে তার কথার দাম কম, এ ভাবনা তাকে আরো বেপরোয়া করে তোলে। বৃহস্পতিবার সকালে যখন তার স্ত্রী নিজের ক্লিনিকে চলে যান, তখনই মীনাকে হত্যা করেন মনীশ।

মীনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা পুলিশের খবর দিলে পুলিশ এসে মীনার লাশ উদ্ধার করে এবং লাশের পাশে বসে থাকা মনীশকে গ্রেপ্তার করে। আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে রক্তাক্ত ক্রিকেট ব্যাট ও ছুরি। নিহত মীনা এলাকায় পরিচিত ‍মুখ। তাকে সবাই শান্ত স্বভাবের বলে বর্ণনা করেছেন। মীনার ভাই ও ছেলে জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মত সেদিন সকালেও তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজে গিয়েছিলেন। পরে তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

১৯৯৯ সালে জয়পুরের সাওয়া মানসিং মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন মনীশ গুপ্ত। এরপর আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন দিল্লির জিবি প্যান্ট হাসপাতালে। পরের বছর তিনি কাজ শুরু করেন দিল্লীর বিখ্যাত এইমস হাসপাতালে। ২০০৫ সালে চম রোগে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি পাওয়ার পর তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন। প্রতিবেশীরা ডা. মনীশ গুপ্তকে চমৎকার মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার সঙ্গে কারো কখনো কোনো বিষয় নিয়ে বিবাদ হয়নি। মাউন্ট কৈলাশের মত অভিজাত এলাকায় ডা. মনীশের স্ত্রীকেও সবাই সম্ভ্রান্ত নারী হিসেব সম্মান করতেন। মীনার মর্মান্তিক মৃত্যুতে সবাই ক্ষুব্ধ। আবার এমন শিক্ষিত ও অভিজাত ডাক্তার পরিবারটির এমন বিপর্যয়েও তারা হতবাক। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad