
অনলাইন ডেস্ক ►
আগামী বছর থেকে স্কুলে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করার ঘোষণা দেওয়া হলেও কলেজের ভর্তি জিপিএর ভিত্তিতেই হবে। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে অনলাইনে চলতি বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরু হবে।
এ বছরও আগের মতোই সর্বনিম্ন পাঁচটি কলেজ ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম দিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। আগামী বছর থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। আগামী ২০ জুলাই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। ফলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরাও একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও চিন্তায় আছেন।
গত রবিবার ২০২৬ সালের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালার খসড়া তৈরি নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আন্ত শিক্ষা বোর্ড কলেজ পরিদর্শকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সব কলেজ পরিদর্শকই জিপিএর ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে মতামত দেন। তবে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ফলে মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও মত দেন কলেজ পরিদর্শকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্কুলে ভর্তি আর কলেজে ভর্তি এক নয়। জিপিএর ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তিতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়। অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকে না। এ ছাড়া একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে খুব বেশি কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়।
কিন্তু সে অনলাইনে সহজেই ১০টি কলেজ পছন্দক্রম দিতে পারে। সুযোগ না পেলে পরের ধাপে তার পছন্দক্রম পরিবর্তনেরও সুযোগ রয়েছে। আর এই কাজে যেহেতু বুয়েট সরাসরি সহযোগিতা করছে, ফলে তেমন কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুনসী হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভর্তি নীতিমালা নিয়ে আন্ত শিক্ষা বোর্ডের সভা করেছি। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন মতামত এসেছে। তা সমন্বয় করে আমরা একটি খসড়া তৈরি করছি। তবে এই খসড়া চূড়ান্ত করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া নিয়মানুযায়ী ফল প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা ভর্তি কার্যক্রম শেষ করব। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহেই একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ গত বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা থেকে জানা যায়, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। শিক্ষার্থীর পছন্দক্রমের ভিত্তিতে তার ফলাফল অনুযায়ী সফটওয়্যারের ভিত্তিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কলেজ চূড়ান্ত করা হয়। তবে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে।
বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, একাদশ শ্রেণিতে জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি করা হলেও ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা এ ধরনের কিছু সংযোজন করা যায় কি না সে ব্যাপারে ভাবা হচ্ছে। কারণ নিজ নিজ এলাকার কলেজে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা যাতে সুযোগ পায় সে ব্যাপারটি বিবেচনায় রয়েছে।
জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে জিপিএর ভিত্তিতে দেশের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও মিশন বা চার্চ পরিচালিত কিছু প্রতিষ্ঠান আদালতের আদেশের ভিত্তিতে নিজেদের স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে। এসব কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এগুলো হলো নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।