Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

দিনাজপুর সীমান্তে পুশব্যাক, বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে ৪ জন

দিনাজপুর সীমান্তে পুশব্যাক, বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে ৪ জন

দিনাজপুর প্রতিনিধি ►
দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বোনতারা-গিলাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘পুশব্যাক’ করা চার বাংলাদেশিকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আনসার সদস্যরা।

বুধবার (২৪ জুন) ভোরে আত্রাই নদীপথ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন নড়াইল জেলার কালিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা একাব্বর আকুব্বর মোল্লা (৫১), তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৪), ছেলে রমজান মোল্লা (১৮) এবং ছোট ভাই বোরহান মোল্লা (৩৫)। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পঙ্কজ বসাক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে শংকরপুর ইউনিয়নের সালকি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আনসার সদস্য আব্দুস সালাম ও জহুরুল ইসলামসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ভাষা, আচরণ ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে চারজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ইউপি সদস্য পঙ্কজ বসাক বলেন, আনসার সদস্য ও স্থানীয়রা চারজনকে আটকের পর আমাকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিজিবিকে জানাই। বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিনাজপুর সেক্টরের অধীন ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুজ্জামান আরিফ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নিজেদের নড়াইল জেলার  কালিয়া উপজেলার কালিয়া পৌর  এলাকার মির্জাপুর মহল্লার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কয়েকদিন আগে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানের পর তারা বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করলেও সফল হননি। পরে আত্রাই নদীপথ ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রমের সময় বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ অভিমুখে পুশব্যাক করে। বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পাওয়া গেছে। তবে তাদের কাছে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। তারা প্রকৃতপক্ষে যশোর জেলার বাসিন্দা নাকি অন্য কোনো জেলার, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্য ও ভারতে অবস্থানের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের পুশব্যাকের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিজিবি বলছে, পরিচয় ও তথ্য যাচাই শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চারজনকে শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিরাপত্তা হেফাজতে রেখে বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad