Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

পটল চাষে সাফল্যের হাসি কৃষক রশিদুলের

পটল চাষে সাফল্যের হাসি কৃষক রশিদুলের

সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ►
দিনাজপুরের বীরগঞ্জের পাল্টাপুর ইউনিয়নের ভোগডোমা গ্রামের কৃষক মো. রশিদুল ইসলামের পটলক্ষেত এখন এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। সবুজ লতায় ছাওয়া মাচার নিচে ঝুলছে অসংখ্য পটল। পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে মাত্র ৫০ শতক জমিতে পটল চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। তার এই সাফল্য আশপাশের কৃষকদের মাঝেও নতুন করে সবজি চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৫০ শতক জমিতে দেশি জাতের পটল আবাদ করেন রশিদুল ইসলাম। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যাসহ মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরু থেকেই ভালো ফলন পাওয়ায় ইতোমধ্যে তিনি পটল বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি। মৌসুম শেষ হলে লাভের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রশিদুলের পটলক্ষেত ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা তার ক্ষেত পরিদর্শনে এসে চাষাবাদ পদ্ধতি, পরিচর্যা কৌশল ও লাভ-লোকসানের হিসাব সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। ফলে তার ক্ষেতটি এখন এক ধরণের প্রদর্শনী খামারে পরিণত হয়েছে।

কৃষক রশিদুল ইসলাম বলেন, শুরুতে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে পরিচর্যা করায় ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারেও পটলের ভালো চাহিদা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ করেছি। আশা করছি মৌসুম শেষে আরও বেশি লাভ হবে।

প্রতিবেশী কৃষক হরমুজ আলী বলেন, রশিদুলের ক্ষেত দেখে আমরা অবাক হয়েছি। আগে অনেকেই শুধু ধান চাষ করতাম। এখন বুঝতে পারছি সবজি চাষে কম সময়ে বেশি লাভ করা সম্ভব। তার সফলতা দেখে আমরাও আগামী মৌসুমে পটল চাষের পরিকল্পনা করছি। আরেক প্রতিবেশী কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “রশিদুল নিয়মিত ক্ষেতের পরিচর্যা করেছে বলেই এমন ফলন পেয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার ক্ষেত দেখতে আসে। তার সফলতা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। কৃষকরা এখন নতুন নতুন ফসল চাষে উৎসাহ পাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “বীরগঞ্জ উপজেলায় নিরাপদ ও মানসম্মত বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি উৎপাদিত হয়, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ বছর উপজেলায় প্রায় ১৭ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হয়েছে। কৃষক রশিদুল ইসলামের সাফল্য অন্য কৃষকদের জন্য অনুকরণীয়। বাজার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad