Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

আইসক্রিম বিক্রি ফেরিওয়ালার জীবনসংগ্রাম

আইসক্রিম বিক্রি ফেরিওয়ালার জীবনসংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ►

৫৮ বছর বয়সী নুরে আলমের জীবনের গল্পটা অনেকটা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নিরন্তর এক যুদ্ধের নাম। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি হিরোবাজার গ্রামের বাসিন্দা নুরে আলম। গত ৩০ বছর ধরে অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে তিনি বেছে নিয়েছেন ফেরি করে আইসক্রিম ও ভাঙারি বিক্রির পেশা। 

নুরে আলমের পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। নিজের নামে মাত্র ১৩ শতক বসতভিটা ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। এই সামান্য সম্বল আর দৈনিক ২০০ থেকে ৪০০ টাকার আয় দিয়েই তিনি টেনে চলেছেন সংসারের চাকা। তবে তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য-সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা।

অভাবের কারণে নিজে দশম শ্রেণির বেশি পড়তে পারেননি নুরে আলম। অর্থাভাবে এসএসসির ফরম পূরণ করতে না পারার সেই কষ্ট থেকেই তিনি শপথ নিয়েছিলেন, নিজের সন্তানদের শিক্ষিত করবেনই। তাঁর সেই অদম্য স্বপ্নের ফলাফলও পাওয়া যাচ্ছে। বড় ছেলে সবুজ মিয়া রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন, মেয়ে লুনা আক্তার বেগম রোকেয়া কলেজে বাংলা অনার্সে অধ্যয়নরত এবং ছোট ছেলে শিহাব মিয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

প্রতিমাসে মেয়ের পড়াশোনার খরচ ও সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হয় নুরে আলমকে। অনেক সময় ধারদেনা করতে হয়, আবার কখনো সংসারের খরচ কমিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাতে হয়। বর্তমান সময়ের বাজারদর এবং ঘরে ঘরে ফ্রিজ হওয়ার কারণে আইসক্রিম বিক্রির ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে, যার ফলে কমে গেছে তাঁর দৈনিক আয়।

নুরে আলমের স্ত্রী শাহিনুর বেগম জানান, বড় ছেলের একটি চাকরি হলে অভাবের দিন হয়তো কিছুটা কমতো। আর ছেলে সবুজ মিয়ার কণ্ঠে ফুটে ওঠে বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, বাবা আমাদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি আমাদের কাছে একজন গর্বিত বাবা।

নুরে আলমের ভাষ্যমতে, যতদিন সুস্থ থাকব আর ছেলেমেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না, ততদিন এই লড়াই চালিয়ে যাব। একজন সাধারণ ফেরিওয়ালার এই অসাধারণ জীবনসংগ্রাম সমাজের অনেক মানুষের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad