Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ২২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ ডেঙ্গুর আশঙ্কা

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ ডেঙ্গুর আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক ►

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় এডিস মশার ব্যাপক বংশবিস্তারের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ। অধিকাংশ জেলায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেশি থাকায় আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের যেকোনো এক মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

দেশে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে হাসপাতালগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। তীব্র জ্বর, শরীরব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। পরীক্ষায় তাদের অধিকাংশেরই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে।

একজন রোগী জানান, প্রথমে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। পরে জ্বর আসে। টানা তিন দিন তার শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত ছিল। আরেকজন রোগী বলেন, প্রথমে এক-দুই দিন মনে হয়েছিল ওষুধ খেলেই ভালো হয়ে যাব। কিন্তু পরদিন আবারও একই অবস্থা হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও মশা গবেষকরা। তাদের মতে, দেশের অধিকাংশ জেলায় এডিস মশার লার্ভা ইনডেক্স ২০-এর বেশি রয়েছে। ফলে আগামী আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরের যেকোনো এক মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, কোনো এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ২০ বা তার বেশি হলে সেখানে এডিস মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। মডেল প্রেডিকশন অনুযায়ী, আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরের যেকোনো এক মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ ব্যাপক হতে পারে। বিশেষ করে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো, চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা এবং ঢাকার আশপাশের গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও কুমিল্লা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া গেলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার আরও বলেন, সবচেয়ে জরুরি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম জোরদার করা। এখনই যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

গত বছরও দেশের কয়েকটি বিভাগে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছিল বরিশাল বিভাগ এবং সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। চলতি বছরও পরিসংখ্যান একই ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বরিশাল বিভাগে, আর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad