Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ৭ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

৫৩ দিন পর মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন শুরু

৫৩ দিন পর মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন শুরু

এম এ জলিল সরকার, পার্বতীপুর ►

মধ্যপাড়া পাথর খনি টানা ৫৩ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল শনিবার সকাল থেকে পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উৎপাদন শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। খনি ভূগর্ভে ব্লাস্টিং এর কাজে ব্যবহৃত এক্সফ্লোসিভ (প্রিল্ড অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) না থাকায় গত ১৯ মে থেকে পাথর উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় উৎপাদন ঠিকাদার জিটিসি। 

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইলফোনে জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদেশ থেকে আমদানীকৃত প্রিল্ড অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনিতে এসে পৌছায় আজ সকাল থেকে জিটিসি পাথর উৎপাদন শুরু করেছে। 

উল্লেখ্য, পাথর উত্তোলন করতে ভূগর্ভে প্রথমে বিস্ফোরণ ঘটাতে হয়। এজন্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়। মধ্যপাড়া খনিতে বছরে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিস্ফোরক লাগে। এর পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। সরকারি নানা নিয়মনীতি মেনে আমদানী করতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। বিস্ফোরক সংকটে এর আগে ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাস ও ২০১৮ সালে ৭ দিন খনির উৎপাদন বন্ধ ছিল। সর্বশেষ ১৯ মে থেকে ৫৩ দিন বন্ধ ছিল। 

খনি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে উৎপাদন ঠিকাদার জিটিসিকে বিস্ফোরক আনার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। এজন্য ২০২২ সালের ১২ মে খনি কর্তৃপক্ষ ও জিটিসি’র মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় জিটিসি ২৮৬.৬৫ মেট্রিক টন প্রিল্ড অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। এতে করে প্রতি মেট্রিক টন প্রিল্ড অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এর দাম পড়ে ১ হাজার বিরাশি দশমিক সাতান্ন ডলার। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যতদিন বিস্ফোরক আনার দ্বায়িত্ব পালন করে ওই সময়ের মধ্যে একদিনের জন্য বিস্ফোরকের অভাবে পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়নি। পরে খনি কর্তৃপক্ষ দাবী করে জিটিসি উচ্চ মুল্যে বিস্ফোরক আমদানী করছে। এতে করে খনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরপর গত বছর থেকে খনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি তা আমদানী করছে। 

২০০৭ সালের ২৫ মে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী ৬ বছরের জন্য খনির উৎপাদন ও রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলারুশের জেএসসি ট্রেস্ট সকটোস্ট্রয় ও দেশীয় একমাত্র মাইনিং কাজে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া করপোরেশন লিমিটেড নিয়ে গঠিত জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি)। জিটিসির ইউরোপিয়ান প্রকৌশলীদল ও দেশীয় প্রায় ৭০০ দক্ষ খনি শ্রমিক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টন পাথর উত্তোলন করায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর থেকে মুনাফা করে আসছে খনিটি। কিন্তু হঠাৎ করে ডলার মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫ শতাংশ টাকা লাগছে। এরফলে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৭ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। গত অর্থবছরেরও লোকসানে রান করেছে। 

জিটিসির প্রথমদফা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় দফা চুক্তির আওতায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পাথর উৎপাদন করছে তারা। দ্বিতীয়দফা চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৬ বছরে প্রায় ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকার বিনিময়ে ৮৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে দিবে। এসময়ের জন্য ৩ হাজার ১০২ মেট্রিক টন প্রিল্ড অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট প্রয়োজন হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জিটিসির চুক্তি মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad