Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ২৬ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

একই প্রকল্পের দ্বৈত বরাদ্দের ১কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ

একই প্রকল্পের দ্বৈত বরাদ্দের ১কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ ►
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই প্রকল্পের দ্বৈত বরাদ্দের ১ কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় মাত্র ৫মাসের ব্যবধানে আবার একই প্রকল্প দেখিয়ে পুনরায় সরকারি বরাদ্দ নিয়ে অর্থ হরিলুট করার বিষয়ে সঠিক ভাবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা কামনা করেছেন উপজেলার সচেতনমহল।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১১তারিখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা শাখা-২ এর যুগ্মসচিব  আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ স্বাক্ষরিত প্রথম প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায় (স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০৪৫.২০.০০৩.২৫-৪২৩) ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে “উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা” থোক বরাদ্দের ৭৭০ কোটি টাকা হতে আদমদীঘি উপজেলার উপজেলা পরিষদের কৃষি অফিস পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের রাস্তা মেরামতকরণ, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের মেরামত ও সংস্কার, উপজেলা পরিষদের পুরাতন প্রশাসনিক ভবন মেরামত ও সংস্কার, উপজেলা আবাসিক ভবন (যমুনা) মেরামত ও সংস্কার, উপজেলা আবাসিক ভবন (রূপসা) মেরামত ও সংস্কার এই ৬টি প্রকল্পের জন্য ৫০লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

চলতি বছরের মে মাসের ১০তারিখে একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের (স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০০০.০৪৫.২০.০৩৬৯.২৬-৭৩৬) মাধ্যমে জানা যায় যে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে “উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা” থোক খাতে বরাদ্দকৃত ৭০০ কোটি টাকা থেকে আদমদীঘি উপজেলার উপজেলা প্রশাসনিক ভবন (পুরাতন) মেরামতকরণ, উপজেলা প্রশাসনিক ভবন (নতুন) সংলগ্ন রাস্তা মেরামতকরণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন অভিমুখী রাস্তা মেরামতকরণ, উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা মেরামতকরণ, উপজেলা আবাসিক বভন (যমুনা) মেরামতকরণ, উপজেলা আবাসিক ভবন (রূপসা) মেরামতকরণের জন্য পুনরায় ৫০লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। মাত্র ৫মাসের ব্যবধানে একই প্রকল্প দেখিয়ে দুইবার ১ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করার বিষয়টি বর্তমানে উপজেলায় টক অব দা নিউজে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরের সকল উন্নয়ন কাজ, নতুন প্রশাসনিক ভবন সজ্জ্বিতকরণের কাজসহ যাবতীয় দৃশ্যমান কাজ সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজার সময়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। একটি অর্থবছরে একই উপজেলায় এবং একই প্রকৃতির কাজের জন্য দুই দফায় বরাদ্দ নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিক ভাবে অস্পষ্ট। উভয় প্রজ্ঞাপনেই আদমদীঘি উপজেলার একই অবকাঠামোগত কাজের (প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক ভবন, রাস্তা) উল্লেখ রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ একবার হওয়ার কথা। মাত্র ৫মাসের (ডিসেম্বর-২০২৫ এবং মে-২০২৬) ব্যবধানের মধ্যে একই ধরণের প্রকল্পের নামে পুনরায় ৫০লাখ টাকা বরাদ্দ নেয়ার মানেই হচ্ছে অর্থ হরিলুট করা। এমন বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে সরকারের অর্থ হরিলুট ও ব্যাপক অনিয়মের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় যে, উপজেলা পরিষদের আবাসিক ভবন রূপসার কোন সংস্কার কিংবা মেরামতের কাজ করা হয়নি। দেখে মনে হবে পুরো ভবন দীর্ঘদিন যাবত পরিত্যাক্ত। ভবনের দেয়ালজুড়ে শেওলা জমে গেছে। যেন একটি ভূতরে একটি ভবন। দ্বিতল ভবনের দু’একটি ফ্লাটে হয়তো কোন পরিবার থাকে। আরো খারাপ অবস্থা প্রকল্পে উল্লেখ্য করা যমুনা আবাসিক ভবনের। এই ভবনের নিচতলার ব্যালকুনিতে জন্ম নিয়েছে বটগাছসহ বিভিন্ন আগাছা। এছাড়া ভবনের ছাদের উপর ও অন্যান্য স্থানে জন্ম নিয়েছে শেওলাসহ পরজীবী গাছরা। ভবনের পেছনের সকল কাঠের জানালার পাল্লাগুলো খুলে খুলে পড়ছে। দেখে মনে হবে শত বছরের পরিত্যাক্ত একটি ভূতরে ভবন। পুরো ভবনের চারটি ফ্লাটে শুধুমাত্র দোতলার একটি ফ্লাটে সম্ভবত একটি পরিবার বসবাস করে। অথচ এই দুটি ভবনের সংস্কার ও মেরামতের প্রকল্প উল্লেখ্য করে দুইবার অর্থ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা মেরামতকরণের প্রকল্প উল্লেখ্য করে দুইবার বরাদ্দ আনলেও রাস্তা মেরামতের কোন খবর নেই। অপরদিকে পুরাতন প্রশাসনিক ভবন মেরামত ও সংস্কারের প্রকল্প উল্লেখ্য করে দুইবার বরাদ্দ আনলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবনের উপর শুধুমাত্র টিনের ছাউনি দিয়ে মাত্র কয়েকটি কক্ষ নির্মাণ করা হচ্ছে। অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবাসিক ভবনে প্রবেশের রাস্তা ও নতুন প্রশাসনিক ভবন অভিমুখি রাস্তাটি মেরামতকরণের প্রকল্প উল্লেখ্য করে দুইবার বরাদ্দ আনলেও রাস্তার কোন কাজই করা হয়নি যা কিছু করা হয়েছে তা বিগত নির্বাহী কর্মকর্তাদের সময়ে। বর্তমানে শুধুমাত্র উপজেলার দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর পুন:নির্মাণের কাজ চলমান রাখা হয়েছে কিন্তু প্রকল্পে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কোন প্রকল্প দেখানো হয়নি।

বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে যদি মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হয়ে থাকে কিংবা একই কাজের বিপরীতে দুইবার সম্পূর্ন বিল উত্তোলন করা হয়ে থাকে তবে তা রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ হিসেবে আখ্যায়িত হবে। অথচ পুরো উপজেলা পরিষদের পরিবেশ খুবই খারাপ। অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ থাকলেও বছরের পর বছর তা করা হয় না। অথচ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা চলছে। দেশে অনিয়ম প্রতিরোধে সরকারি অর্থ হরিলুটের সঙ্গে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তরমূলক শাস্তি প্রদানের কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সচেতনমহল।  

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন দ্বিতীয়বারের জন্য নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছিলো কিন্তু  মন্ত্রণালয় ভুলক্রমে প্রথম প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ বরাদ্দ প্রদান করেছে। তবে উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় দুই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ সমন্বয়ের ভিত্তিতে ব্যয় করা হবে মর্মে রেজুলেশন ও কাজের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সকল প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad