Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪ ঘন্টা আগে
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

এটিই শেষ বিশ্বকাপ, এমনটি বলার সময় আসেনি: কেইন

এটিই শেষ বিশ্বকাপ, এমনটি বলার সময় আসেনি: কেইন

অনলাইন ডেস্ক ►

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার ঘটনাটি আগের বড় টুর্নামেন্টগুলোর ব্যর্থতারই পুনরাবৃত্তি। একই সঙ্গে তিনি জানান, এটি তার শেষ বিশ্বকাপ কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি। সেমিফাইনালে ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে এরপর দলটি রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করলে বলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হাতে চলে যায়। ৮৫তম মিনিটে এনসো ফের্নান্দেস সমতা ফেরান। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেস।

ম্যাচ শেষে কেইন বলেন, ‘আমার মনে হয়, আগের বড় টুর্নামেন্টগুলোর মতোই একই গল্প আবারও ঘটেছে। আমরা ৬০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের গতি খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি, গোল করেছি এবং এগিয়েও ছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারপর কোনো এক কারণে আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারিনি। প্রতিপক্ষের ওপর চাপও তৈরি করতে পারিনি। ফলে তারা ম্যাচের গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আমাদের রক্ষণভাগে বারবার আক্রমণ চালানোর সুযোগ পেয়েছে।’

কেইন বলেন, ‘এক গোলে এগিয়ে থাকার পর সেই লিড ধরে রাখার চেষ্টা করা স্বাভাবিক মানসিকতা। কিন্তু তখনও প্রায় ২০ মিনিট বাকি ছিল। এতটা সময় থাকলে প্রতিপক্ষের গোল করার সুযোগ থাকেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ম্যাচটি আবার দেখতে হবে এবং বুঝতে হবে, এমন পরিস্থিতিতে কোথায় উন্নতি করা দরকার। গত চারটি বড় টুর্নামেন্ট ধরেই এটাই সম্ভবত আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি।’

কেইনের নেতৃত্বে ২০১৮ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছিল ইংল্যান্ড। এরপর ২০২১ সালের ইউরোপীয় আসরের ফাইনাল, ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০২৪ সালের ইউরোপীয় আসরের ফাইনালেও খেলেছে দলটি। তবে প্রতিবারই শিরোপার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে। পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় কেইনের বয়স হবে ৩৬ বছর। তবে সেটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলতে রাজি নন তিনি। কেইন বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলার জন্য এখনো অনেক তাড়াতাড়ি। আমি বছর ধরে এগোই। জাতীয় দলের হয়ে খেলাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব এবং আনন্দ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর চেয়ে বেশি ভালোবাসার কিছু নেই। চার বছর অবশ্যই অনেক দীর্ঘ সময়। এবার আমার বয়স ৩৩ হবে। কিন্তু লিওনেল মেসিকে দেখুন, তার পথ তো শেষ হয়ে যায়নি। এখনো তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছেন।’

‘আমি কখনোই নিজের জন্য কোনো সীমা ঠিক করতে চাই না। সময় এলে তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব। আপাতত এই কঠিন হারটাই মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’ ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ড্যান বার্নও স্বীকার করেছেন, শেষ দিকে দলটি অতিরিক্ত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। ইংল্যান্ড ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় কোচ টমাস টুখেল অ্যান্থনি গর্ডনের পরিবর্তে এজরি কনসা, ডেকলান রাইসের পরিবর্তে নিকো ওরিলি এবং রিস জেমসের পরিবর্তে ড্যান বার্নকে মাঠে নামান।

এই পরিবর্তনের পর পাঁচজনের রক্ষণে চলে যায় ইংল্যান্ড। ফলে আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণের গতি বাড়িয়ে সমতা ফেরায় এবং পরে জয়সূচক গোলও আদায় করে নেয়। বার্ন বলেন, ‘আমি ভীষণ হতাশ। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আমাদের পরিকল্পনা ভালোই কাজ করছিল। কিন্তু গোল করার পর আমরা কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ি, পেছনে সরে যাই এবং শেষ পর্যন্ত তারই শাস্তি পেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষকে সম্ভবত অনেক বেশি সুযোগ দিয়েছি। আর এত সুযোগ দিলে তারা গোল করবেই।’ ‘আমাদের জন্য এটি খুবই হতাশাজনক। এর আগে আমরা অনেক ম্যাচ ভালোভাবে রক্ষণ সামলে শেষ করতে পেরেছি। কিন্তু বিশ্বকাপের ফাইনালের এত কাছে গিয়ে এভাবে হার মানা সত্যিই খুব কষ্টের।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad