
অনলাইন ডেস্ক ►
দেশে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক পাহাড়ধসে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আগামী সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আজ শুক্রবার দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে সাত জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী সময়ে (১৯-২৩ জুলাই) উজানের ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
বন্যার পূর্বাভাস
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হবে। এ কারণে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। এ কারণে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বৃষ্টির পূর্বাভাস
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২২ জুলাই সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখ মানুষ
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা, ঢল ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ মানুষ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্যে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ সাতটি জেলার ৫৭টি উপজেলার ৩৬২টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌর এলাকায় দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। এসব এলাকায় ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
মৃত্যু ও নিখোঁজ
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পর্যটন শহর কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড়ধসে ও ঢলের পানিতে ভেসে ৩২ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া কক্সবাজারে ২৫ জন আহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বান্দরবানে সাতজন এবং রাঙামাটিতে তিনজন নিহত হন। মৌলভীবাজারে ঢলের পানিতে ভেসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোয় ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, এগুলোয় আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, উপদ্রুত সাতটি জেলায় চাল, নগদ টাকা, শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ও এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারে ৪০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল ও রাঙামাটিতে ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।