Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৮ ঘন্টা আগে
  • ৩৫ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

করতোয়া নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান বাসিন্দারা

করতোয়া নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান বাসিন্দারা

বাসস ►
করতোয়া নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদী। এই নদীর ভাঙনে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধ করতে না পারলে, কয়েক শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা।  

সরেজমিনে ঘোড়াঘাট উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। একদিন যে ঘর ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন, আজ সেই ঘরই পরিণত হয়েছে আতঙ্কের ঠিকানায়। মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন করতোয়া নদীর ভাঙনের মুখে। চোখের সামনে জনবসতি, ঘর-বাড়ি, নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন এভাবে ভাঙনের কারণে নদী এগিয়ে আসছে। জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার করতোয়া নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।

ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর, শ্রীকৃষ্ণপুর, সোনারপাড়া, নাপিতপাড়া; শিংড়া ইউনিয়নের ভেলামারি, সাতপাড়া,গনিন্দপুর, গুয়াগাছি, ঋষিঘাট, রামনগর, কুমরিয়া এবং ঘোড়াঘাট পৌরসভার শ্যামপুর, লালমাটি, শহরগাছি,কাদিমনগর, বানিয়াপাড়া, পূর্বপাড়া, বড়গলি ও সাহেবগঞ্জে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। করতোয়া নদীর পাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের একটাই আশঙ্কা, যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে তাদের শেষ আশ্রয়টুকু।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে করতোয়া নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার পর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর তীর ধসে পানি আশ্রয়স্থলের কাছাকাছি চলে এসেছে। এরই মধ্যে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের ভাঙনে এসব ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো. সদের আলী (৬০) বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টে আছি। আমরা গরিব মানুষ। আমাদের কোনো জায়গা জমি নেই। এখানে আরও ঘরবাড়ি ছিল, সেগুলো ভেঙে নদী গর্ভে চলে গেছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে নদী ভাঙন খুব বেড়ে গেছে। আমাদের জায়গা কেনার সামর্থ্য নেই। ছোট বাচ্চারা কখন নদীতে পড়ে যায়, সেই চিন্তায় থাকি। রান্না করে খাবার খেতে পারছি না। খুব কষ্টে আছি।

প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা শ্যামলী রানী বলেন, নদী ভাঙনের কারণে আমরা ঘরবাড়ি খুলে সরাতে পারিনি। আমি অসহায় বিধবা। এখন আমার ৬৮ বছর বয়স হয়েছে। আমার কোনো টাকা-পয়সা নেই। নতুন করে ঘরবাড়ি করতে পারছি না, জায়গাও কিনতে পারছি না। রাত হলেই ভয় লাগে। কখন যেন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়।

নদী তীরের বাসিন্দা গৃহবধূ আয়শা খাতুন বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই বুক ধড়ফড় করে। অনেক কষ্টের পর সরকার আমাদের থাকার জন্য এই ঘর দিয়েছে। এই ঘরও এখন হারানোর ভয় হচ্ছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন নদী সব নিয়ে যায়, সেই আতঙ্কে থাকি। আমাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পাড়ের বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। শিশুদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আতঙ্কে অনেকে রাতে জেগে থাকছেন। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশাপাশি আশপাশের শতাধিক পরিবারও গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণে জিও ব্যাগ ফেলা, স্থায়ী নদী শাসন প্রকল্প গ্রহণ এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন, নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে। অনেক দিন ধরেই ভাঙন চলছে। আমরা সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে এসেছি। নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বালুর বস্তা ফেলে ব্লকের মতো করে নদী ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

করতোয়ার ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত উদ্যোগ চান আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আবারও নদীর স্রোতে হারিয়ে যাবে শতাধিক বাড়িঘর। ঠিকানাহীন হয়ে পড়বে বহু পরিবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad