Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

কাঁচাবাজার লাগামহীন, বেসামাল ক্রেতাগণ

কাঁচাবাজার লাগামহীন, বেসামাল ক্রেতাগণ

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►

বৃষ্টির কারনে সব সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কোন প্রকার সবজি এখন পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় সবজি না থাকার কারণে প্রতিটি কাঁচামাল জেলার বাহির থেকে নিয়ে আসতে হচ্ছে। সে কারনে কাঁচা বাজারের প্রতিটি সবজির লাগামহীন হারে বেড়ে গেছে। বর্তমানে বাজারের যেসব সবজি দেখা যাচ্ছে তার সবগুলো রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর থেকে নিয়ে আসা। কথাগুলা বলেন সুন্দরগঞ্জ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় ভাবে শুধু সামন্য বেগুন, পটল,কচু ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে পরিবহন খরচের কারনে সবজির দাম বেড়ে গেছে। 

সারাদিন অটোরিস্কা চালিয়ে যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে কোনমত চাল, ডাল, লবন, তেল কেনা যায়। কাঁচা বাজারের যাওয়ার মত সাধ্য নেই নিন্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষের বলেন পৌরসভার অটোচালক ছামিউল ইসলাম। তিনি বলেন, বৃষ্টি-বাদলেল অজুহাতে  যে হারে প্রতিদিন সবজিসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েই চলছে, তাতে করে মাসে একদিনও মাছ  এবং মাংস কেনা সম্ভব হবে না। 

সুন্দরগঞ্জ কাঁচা বাজারের বাজার করতে আসা সত্তুর উদ্ধ মো. আব্দুস সামাদ মিঞা বলেন, এক কেজি আলু কিনে ছিলাম ২৫ পয়সায়, বেগুন ২০ পয়সা, পটল ১৫ পয়সা, মরিচ ৩০ পযসা, পিয়াজ ২০ পযসা। আজ সেই আলু কিনতে হচ্ছে ২৫ হতে ৩৫ টাকা, বেগুন ৭০ হতে ৮০ টাকা, মুলা-৮০ টাকা, ঢেড়স-৪০ টাকা, কুমড়া ৭০ টাকা, পটল ৫৫ হতে ৬০ টাকা, করলা ৬০ হতে ৮০ টাকা, কচু ৪০ হতে ৬০ টাকা, মরিচ ২৪০ হতে ২৬০ টাকা, পিয়াজ ৪৫ হতে ৫০ টাকা দরে। তিনি বলেন সেই দিনগুলো কোথায় গেল। এ ভাবে চলতে থাকলে আমরা গরীব মানুষ কিভাবে বাজার করব।

বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম লাগামহীন ভাবে বেড়ে গেছে। ঠিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানর শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাড়েনি, তবে দাম বেড়েছে নিত্য পণ্যের।  একজন সাধারন মানুষ থেকে একজন চাকরি জীবী কিভাবে সংসার চালাবেন এখানেই সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। তবে বাজার মনিটরিং জোর করতে হবে। 

উপজেলার শান্তিরাম গ্রামের সবজি চাষি পলাশ চন্দ্র বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারনে সকল প্রকার সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে জমি তৈরি করে সবজি চাষাবাদে আরও সময় লাগবে। আবহাওয়া অনুকলে থাকলে হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে সবজি বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

দ্বিগুনহারে পরিবহন খরচ দিয়ে জেলার বাহির হতে সবজি নিতে আসতে হয়। সে কারনে প্রতিটি সবজির দাম কেজি প্রতি ২০ হতে ২০০ টাকা বেশি নিতে হচ্ছে বলেন পাইকার বা মহাজন আসাদুল ইসলাম। স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত পর্ণ্যের কোন পরিবহন খরচ হয় না। এসব কারনে সবজি দাম একটু বেশি।  

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টি-বাদলের কারনে উপজেলার ২০ হেক্টর জমির সবজিক্ষত নষ্ট হয়ে গেছে। সবজি চাষিগণ ফের ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টায় মেতে উঠেছে। আশা করা যাচ্ছে নতুন শাকসবজি বাজারে আসলে দাম অনেকটা কমে যাবে। উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, আবশ্যই বাজার মনিটরিং করা হরে। বিক্রেগণ সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad