Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ২০ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

গাইবান্ধার মাটিতে সবুজ স্বপ্ন পেপার প্লেটে নতুন সম্ভাবনার ছাপ

গাইবান্ধার মাটিতে সবুজ স্বপ্ন পেপার প্লেটে নতুন সম্ভাবনার ছাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক ►
গাইবান্ধা পৌরসভার আদর্শপাড়া। সরু গলির শেষে দাঁড়িয়ে আছে সদ্য শুরু হওয়া রেজাউন্নবী রাজুর ক্ষুদ্র কারখানা। এখানে নেই কল-কারখানার গর্জনের শব্দ, আছে ক্ষুদ্র মেশিনের মধুর ছন্দ। প্লাস্টিকে ড্রেন, জলাশয়, নদী ভরে যায়, থার্মোকলের উচ্ছিষ্টে মাটি নিঃশ্বাস নিতে পারে না। যখন সারাদেশ জুড়ে পরিবেশ বাঁচানোর হাহাকার, তখন উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা দেখাচ্ছে বিকল্প পথ। শহরের আদর্শপাড়ার একটি ছোট ঘরেই এখন জন্ম নিচ্ছে ভবিষ্যতের সবুজ প্লেট।

উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন কিছু নিয়ে, যা সস্তা হবে, সুন্দর হবে, আবার মাটিকেও বাঁচাবে। সেই স্বপ্নই আজ বাস্তব। এখানে তৈরি হচ্ছে চোখ ধাঁধানো প্রিন্টেড ও সিলভার লেমিনেটেড প্লেট। দেখতে রাজকীয়, অথচ ওজনে ফুলের মতো হালকা, হাতে নিলেই বোঝা যায় শক্তপোক্ত।

রেজাউন্নবী রাজু বলেন, প্লাস্টিক প্রকৃতির শত্রু। ব্যবহারের পরেও থেকে যায় বছরের পর বছর। আর আমাদের পেপার প্লেট শুধু পচনশীলই নয়, এই প্লেটে আছে মানসম্মত জিএসএম বোর্ড পেপার আর ফুডগ্রেড ল্যামিনেশন। ফলে গরম ভাত, তেল-ঝোলের তরকারি দিলেও ভিজে নেতিয়ে পড়বে না। দামও নাগালের মধ্যে। তাই বিয়ে, জন্মদিন, পিকনিক থেকে শুরু করে ছোট-বড় রেস্তোরাঁ-সবখানেই এটি ব্যবহার করা যায়। এই কারখানার আসল প্রাণ স্থানীয় নারীরা। যারা আগে সংসারের চার দেয়ালে বন্দী ছিলেন, আজ তারা মেশিন চালান, প্যাকেট করেন, নিজের আয়ে নিজের সংসারে অবদান রাখেন।

উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজুর চোখে আরও বড় স্বপ্ন। তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা আর সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে এই ছোট কারখানাই একদিন বড় শিল্প হবে। গাইবান্ধার নামে সারাদেশে পেপার প্লেট যাবে। কর্মসংস্থান হবে শত শত মানুষের। প্লাস্টিক নিষিদ্ধের কথা আমরা বলি, কিন্তু বিকল্প দেখাই না। গাইবান্ধার এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিল, বিকল্প আছে। দরকার শুধু সাহস আর একটু সহায়তার হাত। আদর্শপাড়ার এই ক্ষুদ্র কারখানা থেকে আজ যে প্লেটগুলো বের হচ্ছে, তা শুধু খাবার ধরে রাখছে না। ধরে রাখছে একটি জেলার সবুজ ভবিষ্যতের আশা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad