Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

ফেলে দেওয়া কাঁঠালের বীজেই মিলল নতুন সম্পদ

ফেলে দেওয়া কাঁঠালের বীজেই মিলল নতুন সম্পদ

অনলাইন ডেস্ক ►
দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গাজীপুর। বিশেষ করে শ্রীপুর ও কাপাসিয়ার লাল মাটিতে উৎপাদিত কাঁঠাল দেশজুড়ে সমাদৃত। প্রতি বছর দেশে বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের অভাব ও দুর্বল বাজার ব্যবস্থার কারণে এর উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়ে যায়। কাঁঠালের বীজ, খোসা ও অন্যান্য অবশিষ্টাংশও অধিকাংশ সময় বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সেই ফেলে দেওয়া কাঁঠালের বীজ থেকেই মিলেছে নতুন সম্ভাবনার সন্ধান।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা কাঁঠালের বীজ থেকে ঘনীভূত খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান (মিনারেল কনসেন্ট্রেট) তৈরির নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এ উদ্ভাবনের জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্টও অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং তার স্নাতকোত্তর গবেষক মো. আকরাম হোসেন যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় তিন বছরের গবেষণা শেষে ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রযুক্তিটি সফলভাবে উদ্ভাবিত হয়।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে পুনর্গঠনের পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট পেটেন্টপ্রাপ্ত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১টিতে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ শুকনো কাঁঠালের বীজে প্রায় ২ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকে। তবে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই খনিজ উপাদান ৩৩ শতাংশেরও বেশি ঘনীভূত করা সম্ভব হয়েছে, যা মূল উপাদানের তুলনায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, হাড় ও দাঁতের গঠন, রক্ত তৈরি, স্নায়ু ও পেশির কার্যক্রম এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্ভাবিত মিনারেল কনসেন্ট্রেট বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ব্যবহার করলে সহজেই খাদ্যের পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি শুধু একটি পেটেন্ট অর্জন নয়, বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণায় একটি নতুন মাইলফলক। আমাদের গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, ফেলে দেওয়া কৃষিজ বর্জ্যকেও উচ্চমূল্যের সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। এখন এই প্রযুক্তিকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য।

প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে দেশে নতুন ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে খাদ্য অপচয় ও পরিবেশ দূষণ কমবে, কাঁঠালভিত্তিক নতুন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কাঁঠালের আরও ভালো মূল্য পাবেন। গবেষকদের মতে, কাঁঠালের বীজকে উচ্চমূল্যসম্পন্ন খাদ্য উপাদানে রূপান্তরের এই প্রযুক্তি দেশে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad