Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ৩১ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

৩০ বছর ধরে সাঁকোই একমাত্র ভরসা

৩০ বছর ধরে সাঁকোই একমাত্র ভরসা

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ►
জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু চরবাসির ভ্যার্গের কোন পরিবর্তন হয় না। তিস্তার শাখা নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশ বা কাঠের সাঁকো। আজ থেকে ২০ বছর আগে বাঁশের টার বা নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হত বলেন লাঠশালা চরের আনছার আলী।  তিনি আরও বলেন, দিন যতই যাচ্ছে, ততই চরবাসির কষ্ট বেড়েই চলছে। তারাপুর ইউনিয়নের লাঠশালা, খোর্দ্দা, নিজাম খা, চর তারাপুর, রহমতের চরসহ প্রায় ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ এভাবে সাঁকোর ওপর দিয়ে ৩০ বছর ধরে পারাপারা করছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। কালের বির্বতনে পরিবর্তন হচ্ছে নদীর গতিপথ। নদী ভরাট হয়ে ইতোমধ্যে অসংখ্য শাখা বা নালা নদীতে পরিনত হয়েছে। সেইসব শাখা নদীতে পারাপারের আজও কোন স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়নি সে কারনে নদী বেষ্টিত ইউনিয়নগুলোতে তিস্তার শাখা নদীর ওপর প্রায় শতাধিক ছোট বড় সােঁকা রয়েছে। বছরের প্রায় ৬ হতে ৮ মাস সােঁকার ওপর দিয়ে পারাপার করতে হয় চরবাসিকে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, প্রসুতি মা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও চরে উৎপাদিত পর্ণ্য সরবরাহ অত্যন্ত কষ্টকর।

বেলকা চরের সাফিউল ইসলাম বলেন, চরের শাখা নদী ওপর সাঁকোগুলো প্রতিবছর মেরামত বা সংস্কার করতে হয়। স্থানীয়দের উদ্দ্যোগে ও জনপ্রতিনিধি এবং এনজিও সংস্থার সহায়তায় এসব নির্মাণ করা হয়ে থাকে। চরবাসির জীবনমান আজও পরিবর্তন হয়নি। চরাঞ্চলের জমিতে নানাবিধ ফসল উৎপাদিত হয়।  কিন্তু সেসব পর্ণ্য হাট-বাজারে বা শহরে নেয়া অত্যন্ত কষ্টকর। শাখা নদীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

তারাপুর চরের কলেজ শিক্ষার্থী ফারজানা আকতার বলেন, সােঁকার ওপর দিয়ে ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হয় প্রতিনিয়ত। বন্যার সময় চলাচল করা সম্ভাব হয় না। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা মাঝে মধ্যে এইসব সাঁকো মোরামত করে দেন। এছাড়া এলাকাবাসি নিজেরাই এসব মেরামত করে থাকেন। শাখা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী হয়ে হয়েছে।

কাপাসিয়া চরের পল্লী চিকিৎসক আনছার আলী বলেন, চরে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ রোগী নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় থাকেন পরিবারের সদস্যরা। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অকালে চরে অনেক প্রাণ বিনা চিকিৎসায় ঝড়ে যাচ্ছে। তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান তিনি। তাঁর ইউনিয়নে তিস্তার শাখা নদীর প্রায় ১০টি সাঁকো রয়েছে। প্রতিবছর এইসব সােঁকা ব্যক্তিগত বা ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় মোমত করে দিতে হয়। এলজিইডি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বহুবার ওইসব শাখা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

একই দাবি তুলে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম ও বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্ল্যাহ বলেন, তাদের ইউনিয়নে তিস্তার শাখা নদীর ওপর একাধিক ব্রিজ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে প্রতিবছর চরাঞ্চলে কমবেশি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে বরাদ্দ পেলে নির্মাণ করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী তপর কুমার চক্রবর্তী বলেন, এলজিইডি আওতায় সে সকল স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভাব ইতোমধ্যে তার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।  

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad