Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত খোকনের সন্তানের দায়িত্ব নেবে কে!

সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত খোকনের সন্তানের দায়িত্ব নেবে কে!

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ

২০১৮ সালে এসএসসি পাশ করার পর কর্মের সন্ধানে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় যান খোকন মিয়া (২৬)। ঢাকার একটি গার্মেন্সে চাকরি করার পর গত এক বছর ধরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরির মাত্র এক বছরের মাথায় গত শুক্রবার বিষাক্ত গ্যাসে তার মৃত্যু। খোকন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের মো. রানা মিয়া ছেলে। মৃত্যুর খবর জানার পর পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতন।

আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে মরদেহ সীতাকুণ্ড থেকে গ্রামের বাড়িতে আসলে এক হৃদয় বিদারক ঘটনার অবতারনা হয়। তার এই অকাল মৃত্যুকে পরিবার এবং এলাকাবাসি মেনে নিতে পারছেন না। পরে তার লাশ পারিবারিক করব স্থানে দাফন করা হয়। 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মা-বাবা, এক বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খোকন সবার ছোট। খুব বেশি স্বচ্ছল নয় পরিবারটি। টানাটানির সংসারে খোকন মিয়ার চাকরি অর্থ দিয়ে চলত সংসার। গত তিন বছর আগে পাশ^বর্তী গ্রামের শাপলা বেগমকে বিয়ে করেন খোকন মিয়া। জিসান নামের দেড় বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে খোকনের। জিসানসহ স্ত্রী ও পরিজনের দায়িত্ব নেবে কে! দাবি পরিবারটির। 

খোকনের পিতা মো. রানা মিয়া বলেন, ছেলের চাকরির বেতন দিয়ে টানাটানির সংসার চলত। মালিক আমার সেই ছেলেটিকে কেড়ে নিল। এখন আমার দেড় বছর বয়সী নাতি জিসানের দায়িত্ব নিবে কে?। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, এত অল্প বয়সে আমার নাতি বাবা হারা হয়ে গেল। আমার এই নাতিকে নিয়ে আমি কোথায় যাব। তিনি কোম্পানি ও সরকারের নিকট নাতিসহ পরিবারের সহায়তার দাবি জানান। তার স্ত্রী শাপলা বেগম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের কারনে গত ৭ হতে ৮ মাস হতে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। মৃত্যুর খরব শুনে শিশু সন্তান জিসানকে নিয়ে ছুটে আসেন স্বামীর বাড়িতে। তিনি তার শিশু সন্তানের ভরন পোষনের জন্য কোম্পানি ও সরকারের সহায়তা কামনা করেন। 

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল বলেন, এটি অত্যন্ত একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা। অকালে ছেলেটিকে হারিয়ে পরিবারটি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেল। তার শিশু সন্তানসহ পরিবারটির প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য কোম্পানি এবং সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad