Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

"কালের গর্ভে হারানো লালপুরের ঐতিহ্য: স্মৃতির পাতায় ঘোড়ার গাড়ি​"

"কালের গর্ভে হারানো লালপুরের ঐতিহ্য: স্মৃতির পাতায় ঘোড়ার গাড়ি​"

মোঃ আইয়ুব আলী,(লালপুর) নাটোর ►
একসময় সকালের নরম রোদ কিংবা পড়ন্ত বিকেলে লালপুরের আঁকাবাঁকা কাঁচা-পাকা মাটির রাস্তায় ভেসে আসত ‘টুংটুং’ ঘণ্টার শব্দ আর ঘোড়ার খুরের পরিচিত আওয়াজ। নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় একসময় দূর-দূরান্তে চলাচলের প্রধান ভরসা ছিল কাঠের তৈরি এই টমটম বা ঘোড়ার গাড়ি। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও সময়ের নির্মম পরিক্রমায় সেই ঐতিহ্যবাহী বাহনটি এখন বিলুপ্তির শেষপ্রান্তে।​দুর্গম পথ আর একমাত্র ভরসাখুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন লালপুরের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল চরম বেহাল। ধুলোবালি আর কাদা-জলে ভরা মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে বা অন্য কোনো বাহনে যাতায়াত করা ছিল দুরুহ ব্যাপার।

সেই সময়ে গোপালপুর থেকে লালপুর, লালপুর থেকে বাঘা, কিংবা বিলমারিয়া ও পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরশীল মাধ্যম ছিল এই ঘোড়ার গাড়ি। শুধু সাধারণ যাত্রী পরিবহনই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে হাটে-বাজারে কৃষি পণ্য ও ভারী মালামাল আনা-নেওয়ার প্রধান চালিকাশক্তিও ছিল এটি।​বিয়ে-শাদী ও উৎসবের রাজকীয় আকর্ষণগ্রামবাংলার বিয়ে-শাদীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি। রঙিন কাগজে মুড়িয়ে বর-কনেকে নিয়ে যখন ঘোড়ার গাড়ি রাজকীয় ভঙ্গিতে গ্রামের পথ ধরে হেলেদুলে চলত, তখন পথের দুপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যেত।

বিয়ে ছাড়াও গ্রামীণ মেলা, আত্মীয়ের বাড়ি বেড়ানো কিংবা উৎসব-পার্বণে এই গাড়িতে চড়া ছিল এক ধরনের আনন্দ ও অভিজাত্যের প্রতীক।​প্রযুক্তির ছোঁয়া ও আধুনিকতার দাপটকালের পরিক্রমায় বদলে গেছে লালপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা। কাঁচা রাস্তাগুলো রূপ নিয়েছে পিচঢালা রাজপথে। আর সেই সাথে রাজপথ দখল করে নিয়েছে দ্রুতগতির সিএনজি, অটোরিকশা, বাস ও অটোভ্যান। যাতায়াতে গতি আর স্বাচ্ছন্দ্য আসায় মানুষ এখন কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে এসব আধুনিক বাহনই বেছে নিচ্ছেন। ফলে প্রয়োজনীয়তা হারিয়ে ধীরে ধীরে একপাশে থমকে গেছে টমটম বাহনের চাকা।

​চালকদের দীর্ঘশ্বাস ও বিলুপ্ত ঐতিহ্যবর্তমানে লালপুরের আনাচে-কানাচে আর আগের মতো চোখে পড়ে না ঘোড়ার গাড়ি। জীবন-জীবিকার তাগিদে চালকরাও পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। প্রবীণ ঘোড়ার গাড়ি চালক দুলাল মিয়া স্মৃতিচারণ করে ক্ষোভ ও হতাশার সুরে বলেন—​"এখন আর ঘোড়ার গাড়ি বা টমটমের আগের মতো কদর নেই। মানুষ এখন দ্রুতগামী গাড়িতে চড়তে ভালোবাসে। পেট চালানোই দায় হয়ে পড়েছে, তাই এই বাহনগুলো এখন বিলুপ্তির পথে।"​দুলাল মিয়ার মতো হাতে গোনা দু-একজন চালক এখনো আঁকড়ে আছেন স্মৃতির এই বাহনটিকে, কিন্তু সেই ব্যস্ততা আর কোলাহল আজ শুধুই ইতিহাস। আধুনিকতার এই দ্রুতগতির যুগে হয়তো লালপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়েছে, কিন্তু তার বদলে আমরা হারিয়ে ফেলেছি আমাদের আবহমান গ্রামবাংলার এক অপরূপ রূপ ও ঐতিহ্যময় শৈশব।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad