Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানাতে চান ট্রাম্প

কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানাতে চান ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক ►
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে গেছে। এরপর কানাডাকে লক্ষ্য করে নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে কানাডাকে নিয়ে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর বিবিসির।

ট্রাম্প বলেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য না হয়েও অঙ্গরাজ্যের সুবিধা পেতে চায়। রবিবার (২৩ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কানাডীয়দের ‘বোকামি’ বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে নেমে মনে করছে তারা এতে জিততে পারবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরই নতুন শুল্কের ঘোষণা আসে। ট্রাম্প বলেন, কয়েক বছর ধরে মার্কিন কৃষকদের ওপর কানাডা ‘বিপুল পরিমাণ শুল্ক’ আরোপ করেছে। তাঁর ভাষ্য, আলোচনায় কানাডা অনেক বেশি চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে খুব কম প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে পাল্টা শুল্ক দিচ্ছে কানাডাযুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে পাল্টা শুল্ক দিচ্ছে কানাডা
তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই নতুন শুল্ককে ‘ভুল হিসাব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য কানাডাকে আঘাত করা এবং বিভক্ত করা।

কার্নি শনিবার বলেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে কানাডা। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কার্নির ভাষায়, ‘আক্রমণের শিকার হলে সেটিকে যুদ্ধ বলা হয়। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে শর্ত দিয়েছে, তা কানাডা মেনে নিতে পারে না। আবার যুক্তরাষ্ট্র যে বিষয়গুলো চেয়েছে, সেগুলোও কানাডা দেবে না।

নতুন মার্কিন ৫০ শতাংশ শুল্ক কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর কার্যকর হবে। এর সঙ্গে আগে থেকেই কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠজাত পণ্যের ওপর থাকা মার্কিন শুল্কও বহাল থাকবে।

তবে নতুন শুল্কের আওতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের কানাডীয় পণ্য এতে পড়বে। এটি কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া মোট আমদানির প্রায় ৫ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে মদ, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জাম।

কার্নি জানিয়েছেন, কানাডা অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব পাল্টা ব্যবস্থার বিস্তারিত জানানো হবে।

কানাডার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতাসহ দেশটির কয়েকটি প্রদেশের নেতারা ট্রাম্পের নতুন শুল্কের সমালোচনা করেছেন।

কানাডা থেকে কেনা হবে ২ কোটি ৭১ লাখ লিটার তেলকানাডা থেকে কেনা হবে ২ কোটি ৭১ লাখ লিটার তেল
অন্টারিও প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ড কার্নিকে সমর্থন করে বলেছেন, ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি বলেন, কানাডাকে অন্য দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার মার্কিন দাবি মেনে নিলে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যের সমতুল্য হয়ে যাবে। তাঁর মতে, এই শর্ত কানাডার জনগণের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য ছিল না।

কনজারভেটিভ বিরোধীদলীয় নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভরও নতুন মার্কিন শুল্ককে ‘অযৌক্তিক’ বলে কার্নির অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

কুইবেকের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস্টিন ফ্রেশেট সতর্ক করেছেন, নতুন মার্কিন শুল্কের কারণে কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। তিনি বলেন, এসব পরিসংখ্যানের পেছনে বাস্তব মানুষ রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে সহায়তা করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ দুই দেশকেই আবার আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর প্রদেশ এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে আসছে।

বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পেছনে দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করেছে। কানাডার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে এমন কিছু পরিবর্তন এনেছে, যা ছিল অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে মার্কিন আলোচকেরা অভিযোগ করেছেন, কানাডা আগে সম্মত হওয়া বিষয়গুলো থেকে সরে গিয়ে নতুন দাবি তুলেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ফক্স নিউজকে জানান, এই মুহূর্তে আলোচনা আবার শুরু করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তাঁর দাবি, ব্যর্থ হয়ে যাওয়া চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক কমাতে প্রস্তুত ছিল।

কার্নি অবশ্য সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত দিয়েছিল, যা কানাডার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। এর মধ্যে অন্য দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে কানাডার স্বাধীনতা সীমিত করার বিষয়টিও ছিল।

কানাডা শেষ মুহূর্তে নতুন দাবি তুলেছিল—এমন অভিযোগও অস্বীকার করেছেন কার্নি। তাঁর ভাষায়, কানাডা কেবল আলোচনায় কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্ট করেছিল এবং মার্কিন পক্ষের উত্তর নিয়ে তারা বারবার হতাশ হয়েছে।

ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার কথা বারবার বলে আসছেন ট্রাম্প। তাঁর এই বক্তব্য কানাডার রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও গভীরভাবে পরস্পরনির্ভর। ফলে আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় এই সম্পর্ক এখন বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে সমাধান হবে, তারও এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক। তাঁর যুক্তি, এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়বে এবং দেশে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তবে সমালোচকদের দাবি, শুল্কের কারণে মার্কিন ভোক্তাদের পণ্যের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা ও ক্ষতি।

বিরল খনিজ নিয়ে কেন চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধবিরল খনিজ নিয়ে কেন চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বিরোধের সঙ্গে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে। দুই দেশ মেক্সিকোকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমানে বিদ্যমান যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি বা ইউএসএমসিএর বাধ্যতামূলক পর্যালোচনাও করছে।

ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ১৯৯৪ সালের উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরিবর্তে ইউএসএমসিএ চুক্তি করেছিলেন। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্যের ভিত্তি এই চুক্তি।

চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে কানাডা ও মেক্সিকো আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএসএমসিএ আরও ১৬ বছর নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান কাঠামোতে চুক্তিটি নবায়ন করতে রাজি হয়নি।

শুক্রবারের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার প্রভাব ইউএসএমসিএর ওপর কী পড়বে—এমন প্রশ্নের জবাবে কার্নি বলেন, ‘এটি অবশ্যই ভালো খবর নয়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad