Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

চতরাহাটের জমি মিলেমিশে ভোগদখল, হাট বসছে রাস্তায়

চতরাহাটের জমি মিলেমিশে ভোগদখল, হাট বসছে রাস্তায়

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি ►

উত্তর জনপদের বিখ্যাত ব্যবসা কেন্দ্র পীরগঞ্জের চতরাহাট দখলদারদের কারনে সংকুচিত হয়ে গেছে। রংপুর জেলার সবচেয়ে বড় এই হাট পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নে অবস্থিত। স্থানীয় প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি, চাকুরীজীবি, রাজনীতিবীদ এবং ব্যবসায়ী মহলের ৩ শতাধিক ব্যক্তি মিলেমিশে হাটের জমি অবৈধভাবে প্রতিযোগিতামুলক দখলে নিয়েছেন। ফলে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অপরদিকে হাটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক, ডাস্টবিন না থাকা, জলাবদ্ধতা, রাস্তাগুলো ভেঙ্গে চুরমার হওয়ায় হাটুরেগন নাগরিক সুবিধাও পাচ্ছেন না। ইউনিয়ন ভূমি অফিস বারংবার হাটের জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বাঁধার মুখে পড়ছেন। 

২০২৩ সালের ২৮ আগষ্ট হাটটির জমি উদ্ধারে চতরা ইউনিয়ন ভুমি অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চতরা ইউনিয়ন ভুমি অফিসের অধীনে ইকলিমপুর মৌজায় চতরাহাটের অবস্থান। ওই মৌজায় তফশিল বর্ণিত সিএস ও এসএ রেকর্ডীয় সম্পত্তি ১নং খতিয়ানভুক্ত ৮ টি দাগে ৯ একর ৮০ শতক জমি রয়েছে হাটের নামে। কয়েক বছর আগে প্রায় কোটি টাকায় হাটটি ইজারা হতো। কিন্তু বিভিন্ন সরকারের আমলে দলীয় ক্ষমতা আর স্থানীয় প্রভাবে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ হাটের জমি অবৈধভাবে নিজেদের দখলে নেয়। 

দখলকৃত জমিতে ৪ শতাধিক অবকাঠামো নির্মাণ করায় রাস্তায়, অন্যের জমি এবং অন্যত্র হাটটি বসানো হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, সেলিম মিয়া ও ফরমান মিয়ার নামে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে হাটের ৭৮ নং দাগে ১৬ শতক এবং ১৭০ নং দাগে ৯ শতক জমি নীতি বহির্ভূতভাবে বন্দোবস্ত দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়ছে খুচরা, পাইকারী, আড়তদার ব্যবসায়ী, পথচারী ও সকল যানবাহন। ভুমি অফিস অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে জমি উদ্ধারে পদক্ষেপ নিলেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র ব্যবসায়ীদেরকে উসকে দেয় বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালে সরকার পতনের পর স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হবিবর মেম্বার এক বছরের জন্য ৯৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকায় হাটটি ইজারা নেন। তিনি হাটের জায়গা তাকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অসংখ্য বার লিখিত আবেদন, অভিযোগ করেন। কিন্তু জায়গা বুঝে না দেয়ায় তিনি হাইকোর্টে রীট করেন। পরবর্তীতে তিনি আর হাটটি ইজারা নেননি। ফলে হাটটি খাস কালেকশনে দেয়া হয়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, হাটের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হলে প্রতি বছর কোটি টাকার উর্ধ্বে ইজারা হতো। কাঁচামাল বিক্রেতাগন জানান, উক্ত হাটে এত জায়গা জমি থাকার পরেও  আমাদের কাঁচামাল বিক্রি করতে হচ্ছে চতরা ডিগ্রী কলেজ মাঠ ও ধাপেরহাট-চতরা রাস্তার দুপার্শ্বে। রাস্তায় হাট বসানোর কারনে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়াও প্রতিনিয়ত স্কুল,কলেজগামী ছাত্র, ছাত্রী ও পথচারীরা কম-বেশী  দূর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন।

ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশীলদার নূরে আলম বলেন, হাটের জায়গা কমপক্ষে ৪শ জনের দখলে চলে গেছে। এরমধ্যে আমরা ২০২৩ সালে ৩০৮ জনকে অবৈধ দখলদার হিসেবে জমির পরিমাণসহ তালিকাভুক্ত করেছি।  পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদনও জমা দেয়া হয়েছে। ওই তালিকায় দেখা গেছে ৩৫/৩৬টি গ্রামের প্রভাবশালী লোকজন প্রতিযোগিতা করে হাটের জায়গা দখলে নিয়েছেন। চতরা হাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে দোকান বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হলে যেমন চতরা হাটের শ্রীবৃদ্ধি হবে, তেমনি সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হবে। 

চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন জানান, ২০২০ সালের দিকে রংপুর জেলার জেলা প্রশাসক চতরা হাটের পেরি ফেরি নির্ধারণ করেন। ওই সময় অবৈধভাবে দখলকৃত জমি উদ্ধারে মাইকিং করে লাল নিশানা পুঁতে দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রকৃত ব্যবসায়ীদেরকে পুনর্বাসনের জন্য ভুমি অফিস ওই হাটে ৪শটি দোকান স্থাপনের পরিকল্পনা করে। কিন্তু পরে রহস্যজনক কারণে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি আরও জানান, চতরা হাটের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সরকারিভাবে ব্যবসায়ীদেরকে বরাদ্দ দেয়া হলে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ইজারা হবে। এতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। হাটের কোটি টাকার সম্পত্তি অবৈধ দখল থাকায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে প্রতি বছর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, সহকারী কমিশনার ভূমি সরেজমিনে তদন্ত করছে। শিঘ্রই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad