Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২৪ মিনিট আগে
  • ৩ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক ►
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ থাকতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের, তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, বিচারের মুখোমুখি করা হবে। রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো “আয়নাঘর” থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

তিনি বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের এ দেশে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ‘তারা যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’ গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। গুম শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না, তার পরিবারের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বস্তিও কেড়ে নেয়।তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু গুম ও হত্যার মাধ্যমে এসব অধিকার একসঙ্গে ধূলিসাৎ করা হয়েছে।

গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাংলাদেশে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ভিন্নমত পোষণকারী এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের স্তব্ধ করে দিতে তুলে নিয়ে যাওয়া, গুম ও গোপনে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলামসহ গুম হওয়া অগণিত মানুষের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়া ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ বিভিন্ন মতের রাজনৈতিক কর্মী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও সাধারণ নাগরিককে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে ভিন্ন দেশে ফেলে আসা হয়েছিল। গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ ফিরে এলেও বহু মানুষ আজও নিখোঁজ রয়েছেন। গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করার জন্য এ সময় সংসদ সদস্য সানজিদা তুলির ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, গুম হওয়া পরিবারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সাহসিকতা ও নির্ভীকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এখন প্রতিশোধ নয়, বরং প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তবে শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো সীমাহীন অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা বহন করেছে। তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী এবং নাগরিকরা কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করছেন, সেটিই দেশের প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে। তিনি বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে এবং গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সাম্য ও মর্যাদাকে রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সুশাসন হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, জবাবদিহিতা ও বাকস্বাধীনতা হবে গণতন্ত্রের শক্তি এবং ইনসাফ হবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।

গুম ও বিচারহীনতার অন্ধকার পেরিয়ে বাংলাদেশ সত্য, ন্যায় ও মানবতার আলোকিত পথে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং গুমের ঘটনাসমূহের যথাযথ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad