
অনলাইন ডেস্ক ►
নেপালে ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস ও কাদাধসের কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৮ জনে। হিমলায়ের উঁচু পর্বতে বরফ-পাথরের ধসে সৃষ্ট এই বন্যায় দেশটির কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলা এবং প্রতিবেশী ভারত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে আজ বুধবার নেপাল পুলিশ জানিয়েছে-ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১২৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ জানায়, আজ বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত রাসুয়া জেলায় ৪৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নৌয়াকোটে ১৫৫টি, ধাদিংয়ে ৫৯টি, চিতওয়ানে ৩৪৮টি, গোরখায় ৬৬টি, তানাহুনে ৩৮টি, নাওয়ালপরাসি ইস্টে ২১৭টি, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৯০টি এবং ভারতে ৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ১ হাজার ১১৩টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও আইনি পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের শনাক্ত করতে সহায়তার জন্য ৯১১টি অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং উদ্ধার করা মরদেহ ব্যবস্থাপনার কাজে ৭ হাজার ৯১২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা ৪ হাজার ৮৫৮ জনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে।
পুলিশের দলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক পরিষ্কার করা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তল্লাশি, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট এই বন্যায় ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। এতে কয়েকটি জেলার বসতি, সড়ক, সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।