Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ৯ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ইউএনবি ►
সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে নয়, দেশের সব নাগরিককে নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণের পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়। এ উপলব্ধি থেকেই দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু—এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। অতএব, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন আমরা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি ভাবি।’

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মেলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। কেউ যদি কাউকে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে ইউরোপ বা আমেরিকা সফরের কথা মনে রাখা উচিত। ইউরোপ-আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু সেখানে সংখ্যালঘু!

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয়—আমরা সকলে বাংলাদেশি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে মাঝেমধ্যে কংস চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি করে তা জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে।

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
উপস্থিত অতিথি ও সুধীজনের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। কোলাজ: ইউএনবি
সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কেউ যাতে বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।’

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দেশে কোনো ধরনের বিদ্বেষ যাতে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, সবসময় বলি এবং সবসময় বলব—প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, হিন্দু শাস্ত্র মতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। সনাতন ধর্ম মতে, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় তার আবির্ভাব ঘটে এমন এক সময়ে, যখন সেখানকার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর, দুষ্ট প্রকৃতির, অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী কংস। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে কংসের পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গণতান্ত্রিক জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী সেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানির চেক বিতরণ করেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর
তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব সংহত রাখতে এবং সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। এ লক্ষ্য পূরণে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যে রাষ্ট্র তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অন্যদিকে নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সব নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন।

‘এভাবেই রাষ্ট্র, সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা এবং আলাপের মাধ্যমে গড়ে উঠবে সকলের কাঙ্ক্ষিত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বা কল্যাণকর বাংলাদেশ,’ বলেন তিনি।

রাষ্ট্র ও সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য শুধু রাষ্ট্রের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা।

তিনি বলেন, ‘এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সকলের। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার, আমার, আমাদের সকলের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এবং একই সাথে বিএনপি এবং বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে— ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকারও সবার।’

আসন্ন দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই সামনে আসছে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব উৎসব ও আয়োজন শান্তিতে, স্বস্তিতে ও নিরাপদে পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং জন্মাষ্টমীর পাশাপাশি দুর্গোৎসবেরও আগাম শুভেচ্ছা জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad