
এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
‘এখন কোথায় জাইয়া ঠাঁই নিমু। ঘর তোলার শেষ সম্বল টুকু কেড়ে নিল রাক্ষুসি তিস্তা। গত দুই বছরে ছয়বার নদী ভাঙার পর এই জায়গাত কোনমতে মাথা গুঁজে আছনু। সেটাও আজ চলে গেল। হ্যামার ঘরে দুঃখ দেখারমত কেউ নাই। চোখের সামনত ঘর দুইটা চলি গেল, কিছুই করবার পানু না। কি খামু, কোথায় যামু দিশা নাই’।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তিস্তার পেটে বিলিন হয়ে যাওয়া বসতঘর হারা আব্দুল করিম কান্না জড়িত কণ্ঠে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। একই কথা বলেন ওই গ্রামের আজিভান বেগম ও কোমেরন বেওয়া। তারা উভয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরেরর পাখি চরের সিংগীজানী গ্রামের বাসিন্দ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি ও অবহেলার কারনে ১০০ বসতঘর ২৪ ঘন্টার মধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেল দাবি চরবাসির।
গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তার তীব্র ভাঙনে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখিসহ সিংগীজানী গ্রামের ১০০ বসতঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে অন্তত ২০০ বসতঘর ও শতাধিক একর ফসলি জমি। বুধবার বিকাল ৪টার পর হতে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ওই গ্রামের বসতঘরগুলো তিস্তার পেটে চলে যায়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক, কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়াসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি। গত ১৮আগষ্ট ওই স্থানে তিস্তার ভাঙনে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। স্থানীয় মো. আতোয়ার রহমান বলেন, যখন ভাঙন দেখা দেয়, তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঘুম ভাঙে। ভাঙন থেমে গেলে তারা আবার ঘুমিয়ে পড়ে। এই হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবস্থা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারনে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০০বসতঘর ও শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেল।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসারসহ ভাঙন কবলিত পরিদর্শন করা হয়েছে। চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা করা হয়েছে। আপাতত সামন্য কিছু শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা নিবার্হী অফিসার বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। তাৎক্ষনিক ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ে জানা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপর মহলে তথ্য প্রদান ছাড়া আর কোন কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং, শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভাব নয়।