Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ৬ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

নেপালে বিপর্যয় : সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অকল্পনীয় মানবিক দুর্ভোগ

নেপালে বিপর্যয় : সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অকল্পনীয় মানবিক দুর্ভোগ

অনলাইন ডেস্ক ►

কোথাও বুকভাঙা আর্তনাদ, কোথাও-বা শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটির নিথর দেহটা একটু ছুঁয়ে দেখার আকুতি। নেপালের তীব্র খরস্রোতা ত্রিশূলী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা ৭০ বছরের বৃদ্ধ দিল বাহাদুর শ্রেষ্ঠাকে দেখলে চোখের পানি ধরে রাখা কঠিন। ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপে খালি হাতে মাটি খুঁড়ছেন তিনি; স্ত্রীর মরদেহটা খুঁজে পেতে তাঁর কাছে সামান্য একটা কোদালও অবশিষ্ট নেই। 

দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ৫০ বছরের জীবনসঙ্গী যমুনা শ্রেষ্ঠা পাহাড়ি ঢল আসার ঠিক আগমুহূর্তে বাড়ির হাঁসমুরগিগুলোকে বাঁচাতে ভেতরে ফিরে গিয়েছিলেন। গ্রামের অন্য মানুষ যখন জীবন বাঁচাতে পাহাড়ের দিকে ছুটছিল, যমুনা তখন আটকে পড়েন নিজের ভালোবাসার ভিটেতেই। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে সেই ঘর এখন কাদামাটির কঙ্কাল। এই দৃশ্য কেবল দিল বাহাদুরের নয়, আজ গোটা নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের দৃশ্যটা এমনই এক করুণ আর অবিশ্বাস্য মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষ্য দিচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে ভোতে কোশি আর ত্রিশূলী নদী। সকালে ৮টা ৩৭ মিনিটে শুরু হওয়া এই প্রলয়ঙ্করী প্লাবন মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে লোকালয়কে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। হিমালয়ের সুনামি নামে পরিচিত এই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত মিলিয়ে এ পর্যন্ত এক হাজার ২৭৩ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিখোঁজের সংখ্যা পৌনে পাঁচ হাজার, যাদের মধ্যে আট শতাধিক বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। 
একসময় যেখানে গমগম করত বেত্রাবতীর মতো ব্যস্ত বাজার, সেখানে এখন কয়েক ফুট পুরু কাদার আস্তরণ। ছয়তলা ভবনের শুধু ওপরের দুটি তলা কোনোমতে জেগে আছে। বাস, দোকানপাট কিংবা পিচঢালা রাজপথ- সবকিছু বিলীন হয়ে গেছে। পথ হারিয়ে নদী তার গতিপথ বদলে নিয়েছে বহুদূর দিয়ে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মানুষের মুছে যাওয়া জীবনের অবশিষ্টাংশ- কোথাও শিশুদের পুতুল, আবার কোথাও একটা ভাঙা চশমা বা রান্নার হাঁড়ি। 

উদ্ধার পাওয়া মানুষগুলোর গল্পগুলো আরও বেশি ব্যথাতুর। মাত্র ১০ মাস আগে জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে নতুন ঘর তুলেছিলেন ৫৭ বছর বয়সী শান্তমায়াও লাওয়াত। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পেও টিকে থাকা সেই পরিবারটি এবার এক নিমেষেই হারিয়েছে তাদের পাঁচ স্বজনকে। নদীভাঙনে ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিজের ভিটের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বিলাপ করছিলেন- ‘আমার স্বর্গটা এক মুহূর্তে নরক হয়ে গেল।’ একই অবস্থা রসুয়া জেলার স্যাব্রু বেশি কিংবা টিমুড়ের মতো সীমান্ত গ্রামগুলোর। বহু গ্রাম মানচিত্র থেকে স্রেফ মুছে গেছে, যেখানে চার ভাগের এক ভাগ মানুষেরই এখন কোনো খোঁজ নেই। 

দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত হওয়ার কারণে নিখোঁজদের খোঁজে ও ত্রাণ পৌঁছাতে দেখা দিয়েছে চরম সংকট। সড়কগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কাঠমান্ডু থেকে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে কাদায় ভরা দুর্গম পাহাড়ি পথ। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, রাস্তাঘাট না থাকায় অনেক বিচ্ছিন্ন গ্রামে ত্রাণ পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জরুরি খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের জন্য হেলিকপ্টারের পাশাপাশি কার্গো ড্রোন ও শেরপাদের ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad