Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

ঋণের টাকায় কেনা অটো হারিয়ে নিঃস্ব চালক মানিক মিয়া

ঋণের টাকায় কেনা অটো হারিয়ে নিঃস্ব চালক মানিক মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ►
তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ঝিনেশ্বর গ্রামের মানিক মিয়া। কিন্তু কথিত অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অটোবাইকটি হারিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। ঋণের কিস্তি পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারের চার সদস্যের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে তার।

মানিক মিয়া ঝিনেশ্বর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল তার অটোবাইকটি। মানিক মিয়া জানান, গত ২৬ আগস্ট সকালে গাইবান্ধা কাচারি বাজার এলাকায় যাত্রীর জন্য অটোবাইকটি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে এক ব্যক্তি ধর্মপুর ঝুট মিলে যাওয়া-আসার কথা বলে তার অটোরিকশা ভাড়া করেন। ভাড়া ৪০০ টাকা নির্ধারণ করে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে রওনা হন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পৌরপার্ক এলাকার সামনে নিয়ে যান। সেখানে ওই ব্যক্তি পানির পিপাসা লাগার কথা বলে জুস কিনে আনায়। প্রথমে নিজে জুস পান করে পরে আমাকে তা খেতে দেন। সরল বিশ্বাসে জুস পান করার কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

মানিকের দাবি, এ সুযোগে তার পকেটে থাকা ১ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি বাটন মোবাইল ফোন, নগদ ৪০০ টাকা এবং অটোবাইকটি নিয়ে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয় এক সাংবাদিক তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা সুন্দরগঞ্জ থানা থেকে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

সুস্থ হওয়ার পর পরিচিতদের নিয়ে অটোবাইকটি উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন মানিক। তবে এখন পর্যন্ত অটোবাইকটির কোনো সন্ধান পাননি তিনি। পরে আত্মীয়স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সুন্দরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগটি  তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

মানিক মিয়া বলেন, তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিলাম। এই অটোরিকশা চালিয়েই পরিবারের চার সদস্যের সংসার চলত। এখন অটোবাইকও নেই, আয়ও নেই। একদিকে সংসার চালানোর চিন্তা, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি সব মিলিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

তিনি অটোবাইকটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad