
স্পোর্টস ডেস্ক ►
অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। উত্তেজনাপূর্ণ এই ফাইনালে আর্জেন্টিনার এনসো ফার্নান্দেস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে স্পেন। এটি তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।
নির্ধারিত সময়ের ৬২তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফেরান তোরেস। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে আসা বল পেয়ে কাছ থেকে জোরালো শটে জয়সূচক গোল করেন তিনি। এর আগে ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর বাড়ানো বল হেডে তোরেসের সামনে নামিয়ে দেন নিকো উইলিয়ামস।
এর আগে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে পাউ কুবারসির ওপর বেপরোয়া ফাউল করেন এনসো ফার্নান্দেস। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। ফলে শেষ পর্যন্ত ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল স্পেনের। একের পর এক আক্রমণ গড়েও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি ইউরোপের চ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা ছিল প্রায় নিষ্প্রভ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, দলের প্রথম লক্ষ্যে থাকা শট আসে অতিরিক্ত সময়ের ১১৭তম মিনিটে, যখন লিওনেল মেসির নেওয়া শট প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ আটকে দেয়। আর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের অতিমানবীয়তায় আরও কয়েকটি গোল হজম থেকে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা।
১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত ফুটবলের সামনে তারা নিজেদের সেরা খেলাটি উপহার দিতে পারেনি। অধিনায়ক লিওনেল মেসিও পুরো ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। শেষ দিকে আর্জেন্টিনা মরিয়া চেষ্টা চালালেও স্পেনের রক্ষণভাগ তা সফলভাবে সামাল দেয়।
এবারের বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে অনুষ্ঠিত হয় মোট ১০৪টি ম্যাচ। ম্যাচ সংখ্যা বাড়ায় গোলের সংখ্যাও ছাড়িয়ে যায় আগের সব আসরকে। ফাইনালের আগে পর্যন্ত মোট গোল হয়েছিল ৩০৭টি।
ফাইনাল ঘিরে মাঠে ছিল তারকাদের মিলনমেলা। চলচ্চিত্র, বাস্কেটবল, টেনিস, আমেরিকান ফুটবল, স্কি ও ফুটবল জগতের অসংখ্য কিংবদন্তি গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ম্যাচটি উপভোগ করেন। ম্যাচ শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠিত সমাপনী আয়োজনে ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিরতির বিশেষ আয়োজনও ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম। ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।